০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় বিদেশি ফলের চাষ করে এগিয়ে চলছেন শিক্ষার্থী সম্পদ মন্ডল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪২ Time View

স্টাফরিপোর্টার।


মাগুরার মহম্মদপুরে রাজাপুর ইউনিয়নের রাজপাট গ্রামে বিদেশি ফলের চাষ শুরু করেছেন
সম্পদ মন্ডল নামের এক শিক্ষার্থী।
মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিজ বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত এক একর জমিতে শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী বিদেশি ফলের চাষ।বর্তমানে তার ফল বাগিচায় কোকুয়া,মনি ফ্রুটস,করসল ও কফি গাছে ফল এসেছে।

শখ থেকে শুরু হলেও এখন এটি তার স্বপ্ন,
ভবিষ্যতে বৃহৎ আকারে চাষের পরিকল্পনাও করছেন তিনি।সম্পদ মন্ডল জানান,বিদেশি ফলের প্রতি আগ্রহ থেকেই শুরু।আমি নিজে গাছ ভালোবাসি। ভাবলাম,আমাদের দেশে কেন বিদেশি ফলের চাষ হবে না।তাই মনের ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণের তাগিদে বাড়ির আঙিনায় বেশ কিছু চারা এনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি।এখন গাছগুলো ভালোই বাড়ছে।
প্রাথমিক ভাবে-এর চাহিদা বেড়েছে এইজন্য বাণিজ্যিকভাবে চাষের উদ্যোগ নেব।
সম্পাদ মন্ডলের পিতা( অবসরপ্রাপ্ত) শিক্ষক জগদীশ মন্ডল বলেন,
সম্পাদ নিজেই এই ফল বাগানের পরিচর্যা করে।
পরিবারের সদস্যরাও এতে সহযোগিতা করে থাকে।
চকলেট তৈরির মূল উপাদান কোকোয়া গাছ দেশি পরিবেশে খুবই বিরল।
গাছ সাধারণত ১৫–২০ ফুট পর্যন্ত বড় হয়।
গুঁড়িতে সরাসরি ফল ধরে,যা দেখতে বড়।
কোকোয়া বিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অত্যন্ত বেশি,যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
ডার্ক চকলেট তৈরির উপাদান হিসেবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা সম্পন্ন।
সম্পদের আশা-সঠিক পরিচর্যা পেলে ভবিষ্যতে এখান থেকে কোকোয়া বিনও সংগ্রহ করা যাবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জনপ্রিয় এই ফলটি বাংলাদেশের জন্য নতুন।
গাছটি টেকসই,সারা বছরই ফল দিতে পারে।
ফল দেখতে সবুজ-সাদা এবং কাঁচা অবস্থায় সুগন্ধি।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ডিটক্সিফিকেশনে কার্যকর।
উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে
জানা গেছে।
সম্পদ বলেন,“ননি ফ্রুটস ফল এটি খুবই উপকারী।তাই পরীক্ষামূলক ভাবে দুই বছর আগে লাগিয়েছি।
এখন নিয়মিত ফল আসছে।
করসল বিদেশি জাত,যাকে অনেকেই ‘স্টার ফ্রুট’বলে।ফলের কাটিং করলে তারকা আকৃতির দেখা যায়,স্বাদ মিষ্টি-টক ও রসাল।


ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ।
লিভার ও কিডনি পরিশোধনে সহায়ক।
ওজন কমাতে কার্যকর ফল হিসেবে পরিচিত।
উচ্চভূমির ফসল হলেও পরীক্ষামূলক কফি গাছ লাগিয়েছেন সম্পদ মন্ডল।
লাল রঙের ছোট ফলের ভেতরে থাকে বিখ্যাত কফি বীজ।ফুল অত্যন্ত সুগন্ধি।
কফি বিনে ক্যাফেইন থাকে যা মানসিক সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ ফলে।“বাংলাদেশে কফির চাষ এখন জনপ্রিয় হচ্ছে।
তাই ভেবেছি আমিও শুরু করি।গাছগুলো এখন ভালোই আছে।বর্তমানে কফি ফলে কালার এসেছে।সম্পদ মন্ডল আরো বলেন,তিনি চান নিজের এলাকায় বিদেশি ফলের একটি বাগান গড়ে তুলতে।তার ভাষায়”এটি শুধু শখ না,ভবিষ্যতে বড় স্বপ্ন।স্থানীয়রা বলছেন,সম্পদের এই উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে।এর মাধ্যমে নতুন কৃষি সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে মহম্মদপুরে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শ্রমিক সংগঠনের অফিসে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন।

মাগুরায় বিদেশি ফলের চাষ করে এগিয়ে চলছেন শিক্ষার্থী সম্পদ মন্ডল

Update Time : ০৩:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফরিপোর্টার।


মাগুরার মহম্মদপুরে রাজাপুর ইউনিয়নের রাজপাট গ্রামে বিদেশি ফলের চাষ শুরু করেছেন
সম্পদ মন্ডল নামের এক শিক্ষার্থী।
মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিজ বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত এক একর জমিতে শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী বিদেশি ফলের চাষ।বর্তমানে তার ফল বাগিচায় কোকুয়া,মনি ফ্রুটস,করসল ও কফি গাছে ফল এসেছে।

শখ থেকে শুরু হলেও এখন এটি তার স্বপ্ন,
ভবিষ্যতে বৃহৎ আকারে চাষের পরিকল্পনাও করছেন তিনি।সম্পদ মন্ডল জানান,বিদেশি ফলের প্রতি আগ্রহ থেকেই শুরু।আমি নিজে গাছ ভালোবাসি। ভাবলাম,আমাদের দেশে কেন বিদেশি ফলের চাষ হবে না।তাই মনের ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণের তাগিদে বাড়ির আঙিনায় বেশ কিছু চারা এনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি।এখন গাছগুলো ভালোই বাড়ছে।
প্রাথমিক ভাবে-এর চাহিদা বেড়েছে এইজন্য বাণিজ্যিকভাবে চাষের উদ্যোগ নেব।
সম্পাদ মন্ডলের পিতা( অবসরপ্রাপ্ত) শিক্ষক জগদীশ মন্ডল বলেন,
সম্পাদ নিজেই এই ফল বাগানের পরিচর্যা করে।
পরিবারের সদস্যরাও এতে সহযোগিতা করে থাকে।
চকলেট তৈরির মূল উপাদান কোকোয়া গাছ দেশি পরিবেশে খুবই বিরল।
গাছ সাধারণত ১৫–২০ ফুট পর্যন্ত বড় হয়।
গুঁড়িতে সরাসরি ফল ধরে,যা দেখতে বড়।
কোকোয়া বিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অত্যন্ত বেশি,যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
ডার্ক চকলেট তৈরির উপাদান হিসেবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা সম্পন্ন।
সম্পদের আশা-সঠিক পরিচর্যা পেলে ভবিষ্যতে এখান থেকে কোকোয়া বিনও সংগ্রহ করা যাবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জনপ্রিয় এই ফলটি বাংলাদেশের জন্য নতুন।
গাছটি টেকসই,সারা বছরই ফল দিতে পারে।
ফল দেখতে সবুজ-সাদা এবং কাঁচা অবস্থায় সুগন্ধি।
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ডিটক্সিফিকেশনে কার্যকর।
উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে
জানা গেছে।
সম্পদ বলেন,“ননি ফ্রুটস ফল এটি খুবই উপকারী।তাই পরীক্ষামূলক ভাবে দুই বছর আগে লাগিয়েছি।
এখন নিয়মিত ফল আসছে।
করসল বিদেশি জাত,যাকে অনেকেই ‘স্টার ফ্রুট’বলে।ফলের কাটিং করলে তারকা আকৃতির দেখা যায়,স্বাদ মিষ্টি-টক ও রসাল।


ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ।
লিভার ও কিডনি পরিশোধনে সহায়ক।
ওজন কমাতে কার্যকর ফল হিসেবে পরিচিত।
উচ্চভূমির ফসল হলেও পরীক্ষামূলক কফি গাছ লাগিয়েছেন সম্পদ মন্ডল।
লাল রঙের ছোট ফলের ভেতরে থাকে বিখ্যাত কফি বীজ।ফুল অত্যন্ত সুগন্ধি।
কফি বিনে ক্যাফেইন থাকে যা মানসিক সতর্কতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ ফলে।“বাংলাদেশে কফির চাষ এখন জনপ্রিয় হচ্ছে।
তাই ভেবেছি আমিও শুরু করি।গাছগুলো এখন ভালোই আছে।বর্তমানে কফি ফলে কালার এসেছে।সম্পদ মন্ডল আরো বলেন,তিনি চান নিজের এলাকায় বিদেশি ফলের একটি বাগান গড়ে তুলতে।তার ভাষায়”এটি শুধু শখ না,ভবিষ্যতে বড় স্বপ্ন।স্থানীয়রা বলছেন,সম্পদের এই উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে।এর মাধ্যমে নতুন কৃষি সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে মহম্মদপুরে।