০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরিতে লুজ যাত্রী টিকিটের টাকা হরিলুট


আরিচা -কাজিরহাট নৌরুটে ফেরিতে খাস আদায়ে লুজ যাত্রী টিকিটের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা ঘাটে কর্মরত রেকার গাড়ির ড্রাইভার সদস্যকে দিয়ে যাত্রী টিকিটের টাকা খাস আদায় করছেন। কিন্তু তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করেও দিচ্ছেন না টিকিট। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তাদের যোগসাজসে লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয় থেকে জানা যায়, গত মাসের ১৪ই অক্টোবর হইতে ফেরিতে যাত্রী পারাপারের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। পরবর্তিতে ইজারা না দেয়ায় বিআইডব্লিউটিসি যাত্রী পারাপারে নিজ ব্যবস্থাপানায় খাস আদায় শুরু করেছে। ১৫ অক্টোবর থেকে তারা রেকার গাড়ির ড্রাইভার দিয়ে টিকিট সরবরাহ করছে। যাত্রী প্রতি ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করেছেন ঠিকই, কিন্তু টিকিট দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটারদিকে সরেজমিনে আরিচা ২ নম্বর ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ঘাটে যাত্রী টিকিটের ডিউটিতে ছিলেন রেকার ড্রাইভার রফিক। তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া ৫০ টাকা করে আদায় করছেন। কিন্তু, কাউকে টিকিট দেননি। পুরো টাকা কর্মকর্তাদের যোগসাযশে পকেটস্থ করছেন। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে চারজন যাত্রীর টিকিটের ১৮০ টাকা হাতে দেওয়ায় আমি হাতে নেইনি। ঐ টাকা ফেরীর লস্কর নিয়ে চলে গেছেন। ফেরীর লস্করের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নাম আমার জানা নাই।
ভুক্তভোগী মোঃ বেলাল ও রায়হান আরাও দুইজন সিরাজগঞ্জ থেকে ১৮ই নভেম্বর মানিকগঞ্জে আসেন কাজ খোঁজার উদ্দেশ্যে। কাজ না পেয়ে আরিচা থেকে কাজিরহাট ফেরিতে পারাপারের জন্য ২ নম্বর ঘাটে থেকে টিকিটের জন্য ১৮০ টাকা দিলে টাকা রেখে আমাদেরকে বলে যে আপনারা চলে যান টিকিট লাগবে না। তারা আবারও জিজ্ঞেস করেন যদি ফেরিতে কেউ টিকিট নিয়েছেন কিনা? সেক্ষেত্রে কি বলবো, তিনি বলেন আপনাদেরকে কেউ জিজ্ঞেস করবে না। আর ফেরিতে ওঠার পর আর টিকিট লাগে না।

আরিচা কাউন্টার থেকে জানা যায় ১৫ই অক্টোবর থেকে ২০ই নভেম্বর পর্যন্ত একমাস পাঁচ দিন হয়েছে।এই পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮৮৮৫টি, গড়ে প্রায় দাড়ায় দিনে ২৫৩ টি টিকিট।

ঘাটে ভিন্ন পেশায় কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইজারাদারের লোকজন প্রতিদিন আরিচাঘাটে কমপক্ষে ৬০০থেকে ৭০০ যাত্রীর কাছ থেকে ফেরি ভাড়া আদায় করতেন। এখন খাস আদায় করা হচ্ছে, তাতে যাত্রী কিছু কম হতে পারে। এ যাবৎ কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে। তা জানতে পারলে লুটপাটের প্রকৃত হিসাব দৃশ্যমান হতো। তবে, টিকিট না দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে।রেকার ড্রাইভার রফিক একা নন। এই টাকা ঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা- কাজিরহাট নৌ রুটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, গত ১৫ ই অক্টোবরে থেকে আমরা খাস কালেকশন শুরু করেছি, সরকারি কোষাগারের টাকা কালেকশনে অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গণধর্ষণের তথ্য মেলেনি! আলফাডাঙ্গায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি ছাড়ল মাদ্রাসাছাত্রী

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরিতে লুজ যাত্রী টিকিটের টাকা হরিলুট

Update Time : ১২:০৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫


আরিচা -কাজিরহাট নৌরুটে ফেরিতে খাস আদায়ে লুজ যাত্রী টিকিটের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা ঘাটে কর্মরত রেকার গাড়ির ড্রাইভার সদস্যকে দিয়ে যাত্রী টিকিটের টাকা খাস আদায় করছেন। কিন্তু তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করেও দিচ্ছেন না টিকিট। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তাদের যোগসাজসে লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয় থেকে জানা যায়, গত মাসের ১৪ই অক্টোবর হইতে ফেরিতে যাত্রী পারাপারের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। পরবর্তিতে ইজারা না দেয়ায় বিআইডব্লিউটিসি যাত্রী পারাপারে নিজ ব্যবস্থাপানায় খাস আদায় শুরু করেছে। ১৫ অক্টোবর থেকে তারা রেকার গাড়ির ড্রাইভার দিয়ে টিকিট সরবরাহ করছে। যাত্রী প্রতি ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করেছেন ঠিকই, কিন্তু টিকিট দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটারদিকে সরেজমিনে আরিচা ২ নম্বর ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ঘাটে যাত্রী টিকিটের ডিউটিতে ছিলেন রেকার ড্রাইভার রফিক। তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া ৫০ টাকা করে আদায় করছেন। কিন্তু, কাউকে টিকিট দেননি। পুরো টাকা কর্মকর্তাদের যোগসাযশে পকেটস্থ করছেন। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাকে চারজন যাত্রীর টিকিটের ১৮০ টাকা হাতে দেওয়ায় আমি হাতে নেইনি। ঐ টাকা ফেরীর লস্কর নিয়ে চলে গেছেন। ফেরীর লস্করের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নাম আমার জানা নাই।
ভুক্তভোগী মোঃ বেলাল ও রায়হান আরাও দুইজন সিরাজগঞ্জ থেকে ১৮ই নভেম্বর মানিকগঞ্জে আসেন কাজ খোঁজার উদ্দেশ্যে। কাজ না পেয়ে আরিচা থেকে কাজিরহাট ফেরিতে পারাপারের জন্য ২ নম্বর ঘাটে থেকে টিকিটের জন্য ১৮০ টাকা দিলে টাকা রেখে আমাদেরকে বলে যে আপনারা চলে যান টিকিট লাগবে না। তারা আবারও জিজ্ঞেস করেন যদি ফেরিতে কেউ টিকিট নিয়েছেন কিনা? সেক্ষেত্রে কি বলবো, তিনি বলেন আপনাদেরকে কেউ জিজ্ঞেস করবে না। আর ফেরিতে ওঠার পর আর টিকিট লাগে না।

আরিচা কাউন্টার থেকে জানা যায় ১৫ই অক্টোবর থেকে ২০ই নভেম্বর পর্যন্ত একমাস পাঁচ দিন হয়েছে।এই পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮৮৮৫টি, গড়ে প্রায় দাড়ায় দিনে ২৫৩ টি টিকিট।

ঘাটে ভিন্ন পেশায় কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইজারাদারের লোকজন প্রতিদিন আরিচাঘাটে কমপক্ষে ৬০০থেকে ৭০০ যাত্রীর কাছ থেকে ফেরি ভাড়া আদায় করতেন। এখন খাস আদায় করা হচ্ছে, তাতে যাত্রী কিছু কম হতে পারে। এ যাবৎ কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে। তা জানতে পারলে লুটপাটের প্রকৃত হিসাব দৃশ্যমান হতো। তবে, টিকিট না দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে।রেকার ড্রাইভার রফিক একা নন। এই টাকা ঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা- কাজিরহাট নৌ রুটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, গত ১৫ ই অক্টোবরে থেকে আমরা খাস কালেকশন শুরু করেছি, সরকারি কোষাগারের টাকা কালেকশনে অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।