১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘিওরে বালুমহালের সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় শ্রীধরনগর বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
অভিযোগ উঠেছে, লিমন, আজিজুল ও সাইফ সানোয়ার, (আওয়ামী লীগের দোসর) ইকবাল প্রধান , বক্কার ঠাকুর , নাহিদসহ এই আত্মঘাতী অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব অবৈধ ড্রেজার মালিকদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঘিওর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফ সানোয়ার। তার প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রশাসনের একটি অংশের নীরব সহযোগিতায় নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করলেও সেই অভিযান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযানের সময় নদীতে অন্তত পাঁচটি অবৈধ ড্রেজার চলমান থাকলেও চরবাইলজুরি এলাকায় মাত্র একটি ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অথচ এর পাশ্ববর্তী শ্রীধরনগর এলাকায় আরও চারটি অবৈধ ড্রেজার প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক নদীতীরবর্তী কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর অবৈধ ড্রেজারের কারণে নদীভাঙন বেড়ে আমাদের ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজার মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে পয়লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিওন বক্তিয়ার ও ঘিওর সহকারী কমিশনার (ভূমির) ড্রাইভার স্বপনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের একটি অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য অবৈধ বালু উত্তোলনে সহায়তা করছেন। এর ফলে সরকার একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা হারাচ্ছেন তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি।

নদীতীরবর্তী জমির মালিকরা জানান, অবৈধ ড্রেজার নিয়ে কথা বললে ড্রেজার মালিকরা তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এক কৃষক বলেন, “ড্রেজার নিয়ে কিছু বললেই আমাদের আওয়ামী লীগের তকমা দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”

অন্যদিকে, অবৈধ ড্রেজার মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন, “আমরা বালুমহালের নির্ধারিত এলাকাতেই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছি।” তবে স্থানীয়দের ভাষ্য ও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন আরও তীব্র হবে, কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হলেন পারমিস সুলতানা

ঘিওরে বালুমহালের সীমানা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য

Update Time : ০২:২১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় শ্রীধরনগর বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
অভিযোগ উঠেছে, লিমন, আজিজুল ও সাইফ সানোয়ার, (আওয়ামী লীগের দোসর) ইকবাল প্রধান , বক্কার ঠাকুর , নাহিদসহ এই আত্মঘাতী অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব অবৈধ ড্রেজার মালিকদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঘিওর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফ সানোয়ার। তার প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রশাসনের একটি অংশের নীরব সহযোগিতায় নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করলেও সেই অভিযান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযানের সময় নদীতে অন্তত পাঁচটি অবৈধ ড্রেজার চলমান থাকলেও চরবাইলজুরি এলাকায় মাত্র একটি ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অথচ এর পাশ্ববর্তী শ্রীধরনগর এলাকায় আরও চারটি অবৈধ ড্রেজার প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক নদীতীরবর্তী কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর অবৈধ ড্রেজারের কারণে নদীভাঙন বেড়ে আমাদের ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজার মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে পয়লা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিওন বক্তিয়ার ও ঘিওর সহকারী কমিশনার (ভূমির) ড্রাইভার স্বপনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের একটি অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য অবৈধ বালু উত্তোলনে সহায়তা করছেন। এর ফলে সরকার একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা হারাচ্ছেন তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমি।

নদীতীরবর্তী জমির মালিকরা জানান, অবৈধ ড্রেজার নিয়ে কথা বললে ড্রেজার মালিকরা তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এক কৃষক বলেন, “ড্রেজার নিয়ে কিছু বললেই আমাদের আওয়ামী লীগের তকমা দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”

অন্যদিকে, অবৈধ ড্রেজার মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন, “আমরা বালুমহালের নির্ধারিত এলাকাতেই ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছি।” তবে স্থানীয়দের ভাষ্য ও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন আরও তীব্র হবে, কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”