০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বাস্ত পূজা উদযাপন


মাগুরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান লোকজ ধর্মীয় উৎসব পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাস্ত পূজা। শীতের শেষে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই এ পূজার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর থেকেই গ্রামাঞ্চলে বাস্ত পূজাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কৃষিজীবী পরিবারগুলো বাড়ির আঙিনা ও খোলা মাঠে কলাগাছ,ধান,শাক-সবজি,ফলমূল ও নতুন চাল দিয়ে সুসজ্জিত করে তোলে পূজার মণ্ডপ।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতির আবহে দিনভর চলে নানা আয়োজন।
স্থানীয় পুরোহিতদের মতে, বাস্ত পূজার মাধ্যমে জমির উর্বরতা, ফসলের প্রাচুর্য এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এটি কৃষিভিত্তিক সমাজের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি লোকজ ধর্মীয় আচার।

একইভাবে মাগুরা সদর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বাস্ত পূজা ও লোকজ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মহম্মদপুর উপজেলার সালধা গ্রাম এবং ইছামতি বিলের কচাতলা এলাকায় বাস্ত পূজা ও আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষেরা।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও বাস্ত পূজা এখনো মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি ও শিকড়ের সম্পর্ক অটুট রাখছে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়,বরং কৃষিভিত্তিক সমাজের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার এক অনন্য উপলক্ষ।

উল্লেখ্য, পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিনে এ উৎসব পালিত হয়,যা নতুন বছরের আগমনের বার্তা বহন করে এবং গ্রামীণ জীবনে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ ছড়িয়ে দেয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

এতিমদের পাশে আজীবনের অঙ্গীকার: প্রতি মাসে ১০০ কেজি চাল দেবেন মরিশাসপ্রবাসী আকাশ মিয়া

মাগুরায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বাস্ত পূজা উদযাপন

Update Time : ০৫:৪৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬


মাগুরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান লোকজ ধর্মীয় উৎসব পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাস্ত পূজা। শীতের শেষে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই এ পূজার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর থেকেই গ্রামাঞ্চলে বাস্ত পূজাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কৃষিজীবী পরিবারগুলো বাড়ির আঙিনা ও খোলা মাঠে কলাগাছ,ধান,শাক-সবজি,ফলমূল ও নতুন চাল দিয়ে সুসজ্জিত করে তোলে পূজার মণ্ডপ।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতির আবহে দিনভর চলে নানা আয়োজন।
স্থানীয় পুরোহিতদের মতে, বাস্ত পূজার মাধ্যমে জমির উর্বরতা, ফসলের প্রাচুর্য এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এটি কৃষিভিত্তিক সমাজের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি লোকজ ধর্মীয় আচার।

একইভাবে মাগুরা সদর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বাস্ত পূজা ও লোকজ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মহম্মদপুর উপজেলার সালধা গ্রাম এবং ইছামতি বিলের কচাতলা এলাকায় বাস্ত পূজা ও আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষেরা।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও বাস্ত পূজা এখনো মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি ও শিকড়ের সম্পর্ক অটুট রাখছে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়,বরং কৃষিভিত্তিক সমাজের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার এক অনন্য উপলক্ষ।

উল্লেখ্য, পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিনে এ উৎসব পালিত হয়,যা নতুন বছরের আগমনের বার্তা বহন করে এবং গ্রামীণ জীবনে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ ছড়িয়ে দেয়।