০৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের দুই সশস্ত্র ক্যাডার গ্রেপ্তার।

  • শাহীনুল হক।
  • Update Time : ০৭:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭০ Time View

নীরব রাত। ঘুমে ঢলে পড়া আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম। হঠাৎই ভেঙে যায় নিস্তব্ধতা। সাইরেনের শব্দ, পুলিশের গাড়ির আলো, আর মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। শুরু হয় অভিযান। আর সেখানেই ধরা পড়ে কুখ্যাত শুটার সাদ্দাম গ্রুপের দুই শীর্ষ ক্যাডার।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের এই দুই শীর্ষ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানার রাজারচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য আনোয়ার হোসেন জনি ওরফে জন্তু জনি (৩২) এবং রাজধানীর চকবাজার থানার লালবাগ মহল্লার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপু(২৮)।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানকালে আত্মগোপনে থাকা দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দুজন আশুলিয়া থানা যুবলীগের সদস্য ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের অনুসারী।

স্থানীয়রা জানায়, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও এখনো পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন তালুকদার। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকায় সন্ত্রাসীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন জনির বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি এবং মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপুর বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টি মামলা। বুধবার দুপুরে তাদের দু’জনকেই আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় (নং-৫০) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাকি মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

ডিবি পুলিশের দাবি, আশুলিয়া থানা যুবলীগের সদস্য ও শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাতক শুটার সাদ্দাম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া ও সাভারজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও প্রকাশ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার হাতুড়ি, রড, ধারালো দা, জিআই পাইপ এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালাত। এদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যাসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, “এই সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় ভয় ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই আমাদের অভিযান।”

পুলিশ জানিয়েছে, শুটার সাদ্দামসহ গ্রুপের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের দুই সশস্ত্র ক্যাডার গ্রেপ্তার।

Update Time : ০৭:২৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নীরব রাত। ঘুমে ঢলে পড়া আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম। হঠাৎই ভেঙে যায় নিস্তব্ধতা। সাইরেনের শব্দ, পুলিশের গাড়ির আলো, আর মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। শুরু হয় অভিযান। আর সেখানেই ধরা পড়ে কুখ্যাত শুটার সাদ্দাম গ্রুপের দুই শীর্ষ ক্যাডার।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের এই দুই শীর্ষ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানার রাজারচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য আনোয়ার হোসেন জনি ওরফে জন্তু জনি (৩২) এবং রাজধানীর চকবাজার থানার লালবাগ মহল্লার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপু(২৮)।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানকালে আত্মগোপনে থাকা দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দুজন আশুলিয়া থানা যুবলীগের সদস্য ও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের অনুসারী।

স্থানীয়রা জানায়, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও এখনো পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন তালুকদার। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এলাকায় সন্ত্রাসীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন জনির বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি এবং মোহাম্মদ অপু ওরফে কাইল্যা অপু ওরফে দস্যু অপুর বিরুদ্ধে রয়েছে ১০টি মামলা। বুধবার দুপুরে তাদের দু’জনকেই আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় (নং-৫০) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বাকি মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

ডিবি পুলিশের দাবি, আশুলিয়া থানা যুবলীগের সদস্য ও শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাতক শুটার সাদ্দাম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া ও সাভারজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও প্রকাশ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার হাতুড়ি, রড, ধারালো দা, জিআই পাইপ এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালাত। এদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যাসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, “এই সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় ভয় ও আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই আমাদের অভিযান।”

পুলিশ জানিয়েছে, শুটার সাদ্দামসহ গ্রুপের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।