বর্ষার প্রলয়ংকরী ঢল থামতেই কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে এক অভাবনীয় দৃশ্য—রাস্তার পাশের গর্তগুলো যেন হঠাৎ করেই পরিণত হয়েছে মাছের ক্ষুদ্র ভাণ্ডারে। নানা প্রজাতির বড় বড় মাছ উঠে আসায় স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের মতো আমেজ।
পানি নিষ্কাশনের সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের খাল-বিল, ডোবা ও খেতের পানি ধীরে ধীরে গর্তের দিকে নেমে আসছে। সেই স্রোতে ভেসে আসা শোল, বোয়াল, মাগুর, টাকি, কৈ—এমনকি রুই-কাতলার স্বাস্থ্যবান পোনাও আটকা পড়ছে এসব গর্তে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন প্রকৃতির অশেষ উপহার!”
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, একটি গর্তের চারপাশে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। কেউ ছোট জাল ফেলছেন, কেউ চালুনি দিয়ে মাছ তুলছেন, আবার অনেকে খালি হাতেই লাফিয়ে পড়ছেন গর্তের ভেজা মাটিতে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধরা পড়ছে একের পর এক রসময় মাছ, আর তা ঘিরে উঠছে উচ্ছ্বাসের হাঁকডাক।
স্থানীয় যুবক মিজানুর রহমান বলেন, “এতো বড় শোল মাছ শেষ কবে দেখেছি মনে নেই! পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্তে কী ভাণ্ডার লুকিয়ে থাকে—তা না দেখলে বিশ্বাসই হতো না।”
আরেক বাসিন্দা হাসিমুখে বলেন, “আজ তো বাজারে যেতে হবেই না, গর্তেই পাওয়া গেলো মাছ!”
মৎস্য বিভাগের স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, বর্ষায় নদী-খাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ছোট জলাধার ও জমিতে মাছ আশ্রয় নেয়। পানি স্রোতের টানে সেগুলো রাস্তায় জমে থাকা গর্তে গিয়ে আটকে পড়ে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা গ্রামবাসীর জন্য আনন্দ হলেও সড়কের গর্ত দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন এবং মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় খাল-বিল পুনঃখনন অত্যন্ত জরুরি।
গ্রামের মানুষ বলছে, বর্ষার পর রাস্তাঘাটে এমন দৃশ্য এক ধরনের গ্রামীণ উৎসবের জন্ম দিয়েছে—যেখানে খালি হাতও বোঝাই হয়ে ফিরছে মাছের ঝুড়ি নিয়ে। অবহেলিত গর্তগুলো যেন এক মুহূর্তেই হয়ে উঠছে অপ্রত্যাশিত, অনন্য এক “মাছের খনি”।
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : 



















