০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে স্কুল শিশু শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। শিবালয় থানা পুলিশ ভিকটিমকে আদালতে নিয়ে গেলে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।  নয়াবাড়ি বাজারের টেইলার্স দোকান মালিক পোর দাস পরিমলকে (৬৫) প্রধান করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করে শিশুটার পিতা শিবালয় থানায় এই অভিযোগ করেন।

ভূক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা জানায়, শিশুটা নয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৯ শে অক্টোবর সে বিদ্যালয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে পাশে গেলে শিশুটাকে পরিমল ১০ টাকা দেয়ার প্রলোভন দিয়ে দোকানের ভেতর ডেকে নেয়। এরপর শিশুটার স্পর্শকাতর স্থানে হাত বুলিয়ে চুমা দিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। শিশুটাকে এক ফাঁকে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হয়। ভূক্তভোগিকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বাজার কমিটির সভাপতি কাছে গিয়ে বিষয়টি জানায়। সভাপতি যৌন নির্যাতনের ঘটনা আপোষ করতে আপত্তি জানিয়ে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন,‘এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের না করতে বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে নেতা-কর্মী পরিচয়ধারী স্থানীয় মালেক, মান্নান, শওকত, নন্দ প্রফেসরসহ আরও ৬/৭ জন তাকে চাপ সৃষ্টি করে। বসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেবে। এতে রাজি না হলে মেরে ফেলাসহ নানা হুমকি-দামকি দেয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে শওকতের দোকানে তাকে ডেকে নিয়ে ঘটনাটি আপোস করার জন্য হুমকি-দামকি দিয়ে জোরপূর্বক তিনশ’ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরের দিন সকালে নন্দ প্রফেসরের বাড়িতে সালিশ বসিয়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে দিলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা সটকে পড়ে। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় শিবালয় থানায় গিয়ে এই ঘটনায় অভিযোগ করেন।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও পরিমল ৩/৪ শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছিল। দুই মাস আগেও এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করে আপোস করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মোমিন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে আদালতে ভিকটিমকে নিয়ে গিয়ে ২২ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

শিবালয়ে স্কুল শিশু শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা

Update Time : ০৫:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। শিবালয় থানা পুলিশ ভিকটিমকে আদালতে নিয়ে গেলে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।  নয়াবাড়ি বাজারের টেইলার্স দোকান মালিক পোর দাস পরিমলকে (৬৫) প্রধান করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামি করে শিশুটার পিতা শিবালয় থানায় এই অভিযোগ করেন।

ভূক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা জানায়, শিশুটা নয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৯ শে অক্টোবর সে বিদ্যালয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে পাশে গেলে শিশুটাকে পরিমল ১০ টাকা দেয়ার প্রলোভন দিয়ে দোকানের ভেতর ডেকে নেয়। এরপর শিশুটার স্পর্শকাতর স্থানে হাত বুলিয়ে চুমা দিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। শিশুটাকে এক ফাঁকে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হয়। ভূক্তভোগিকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বাজার কমিটির সভাপতি কাছে গিয়ে বিষয়টি জানায়। সভাপতি যৌন নির্যাতনের ঘটনা আপোষ করতে আপত্তি জানিয়ে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন,‘এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের না করতে বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে নেতা-কর্মী পরিচয়ধারী স্থানীয় মালেক, মান্নান, শওকত, নন্দ প্রফেসরসহ আরও ৬/৭ জন তাকে চাপ সৃষ্টি করে। বসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেবে। এতে রাজি না হলে মেরে ফেলাসহ নানা হুমকি-দামকি দেয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে শওকতের দোকানে তাকে ডেকে নিয়ে ঘটনাটি আপোস করার জন্য হুমকি-দামকি দিয়ে জোরপূর্বক তিনশ’ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরের দিন সকালে নন্দ প্রফেসরের বাড়িতে সালিশ বসিয়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে দিলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা সটকে পড়ে। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় শিবালয় থানায় গিয়ে এই ঘটনায় অভিযোগ করেন।’

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও পরিমল ৩/৪ শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছিল। দুই মাস আগেও এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করে আপোস করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মোমিন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে আদালতে ভিকটিমকে নিয়ে গিয়ে ২২ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।