মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষককে, সহকারী শিক্ষক লাঞ্ছিত করায় ২ ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে আসলে ঘটনাটি জানার পরে, তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে ২ ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ মানববন্ধন করেন , স্লোগানে দিতে থাকে, লেগেছেরে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে, এক দফা একদাবি জাহিদুল তুই কবে যাবি, বিদ্যালয়ে রাজনীতি চলবে না, চলবে না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার কথা যে শিক্ষকদের, তাদের মধ্যেই যখন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারমুখী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তখন তা কেবল প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো সমাজ ও শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনুষ্ঠানের দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার যে অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে, তা কোনোভাবেই একজন আদর্শ শিক্ষকের কাছে প্রত্যাশিত নয়। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে ঘটনা ঘটে।
প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক গত বছর সেই দায়িত্ব পালন করলেও এবার অন্য তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম ‘নয়াবাড়ির মাটিতে তাকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান হতে না দেওয়ার’ যে হুমকি দিয়েছেন, তা স্পষ্টতই প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বেতন কর্তনের প্রসঙ্গ টেনে একে ব্যক্তিগত আক্রোশ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। তবে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তর্কের সূত্রপাত এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাটি জাহিদুল ইসলামের আক্রমণাত্মক আচরণেরই ফলাফল। এমনকি প্রধান শিক্ষকের হাত থেকে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি একজন সিনিয়র শিক্ষকের চরম অপেশাদারিত্ব ও নৈতিক স্খলনকেই ইঙ্গিত করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার জানান, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। উভয় পক্ষকে ডেকে বসে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : 



















