মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ সময়ে ব্যয় না করে সরঞ্জাম কেনার নামে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র সাহা ও প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় মেম্বার মো. দেলোয়ার হোসেন। প্রকল্পে নামেমাত্র কাজ দেখিয়ে তারা লুটপাটের নানা অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়, টিআর প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ, পানির পাম্প ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার জন্য ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থবছর শেষ হলেও এসব সরঞ্জাম এখনো সম্পূর্ণ কেনা হয়নি।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র সাহা দাবি করেন, ‘প্রকল্পের মধ্যে ল্যাপটপ, পানির পাম্প, দুইটি ফ্যান, ইলেকট্রনিক্স সুইচ, তার ও দরজা-জানালার পর্দা কেনা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৯৪ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান এবং সব কিছু তিনি নিজেই কিনেছেন।’
তবে তিনি এ পর্যন্ত কোনো ভাউচার বা কেনা ল্যাপটপ দেখাতে পারেননি। দুইটি ফ্যানের জন্য আলাদাভাবে ৩,২০০ ও ২,৯০০ টাকা ব্যয়ের কথা বলা হলেও বাজারদর অনুযায়ী এর দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার টাকা। পানির পাম্পের দাম ১৫ হাজার টাকা ধরা হলেও বাজারদর ৮-১০ হাজার টাকার বেশি নয়। আর ১৭টি পর্দার জন্য প্রতিটির দাম ৩০০ টাকা হিসেবে ব্যয় দেখানো হলেও বাজারদর ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা একা নন তারা দু’জনে মিলে সরঞ্জাম কেনেছেন নিশ্চিত করে প্রকল্পের সভাপতি ও স্থানীয় মেম্বার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, দুইটি ফ্যান ও পানির পাম্প কেনা হয়েছে। এখনো ল্যাপটপ কেনা হয়নি। দু’একদিনের মধ্যে কেনা হবে। এরপর তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরি বলেন,‘প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আরও এক সপ্তাহ সময় তাদের দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্য কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে, ইতোমধ্যে প্রকল্পের সরঞ্জাম কেনা যে দুর্নীতি হয়েছে তা উল্লেখ করে জানতে চাইলে ‘জেলা অফিসে মিটিংয়ে আছি’ ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এই কর্মকর্তা।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : 









