বয়স মাত্র ১৩ বছর। যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার আনন্দ, সেই বয়সে কাঁধে চেপেছে পুরো সংসারের গুরুভার। মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার মিনাজদী গ্রামের মেধাবী ছাত্র রবিউল শেখের জীবন সংগ্রাম এখন এমনই করুণ। ২০২৪ সালে মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের হাল ধরতে সে এখন বাদাম বিক্রেতা। প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয় আর বিকেলে কাঁধে বাদামের ঝুলি—এভাবেই চলছে তার জীবনযুদ্ধ।

রবিউল শেখ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষকদের মতে, রবিউল অত্যন্ত মেধাবী ও নম্র আচরণের। বড় হয়ে সরকারি চাকরি করে পরিবারের কষ্ট দূর করার স্বপ্ন তার। কিন্তু বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বাবাকে হারিয়ে মা তাসলিমা বেগমও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বাধ্য হয়েই রবিউলকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। বাদাম বিক্রির টাকায় কোনোমতে দিন চললেও রবিউলের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঠিকমতো স্কুলেও যেতে পারছে না সে।
রবিউল জানায়, “সংসারের খরচের জন্য অনেক সময় স্কুলে যেতে পারি না। তবে আমি পড়াশোনা ছেড়ে দিতে চাই না। কষ্ট হলেও পড়ে যেতে চাই, যেন বড় হয়ে মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।”
রবিউলের অসুস্থ মা তাসলিমা বেগম অশ্রুসজল চোখে বলেন, “ছেলেটাকে নিয়ে ওর বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ক্যান্সারে স্বামী মারা যাওয়ার পর আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। অসুস্থতার কারণে আমি কোনো কাজ করতে পারি না। সমাজের দানশীল মানুষ ও সরকার যদি একটু পাশে দাঁড়ায়, তবে আমার ছেলেটার পড়াশোনাটা বন্ধ হতো না।”
রবিউলের মেধা ও দুর্দশার বিষয়ে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমির ইংরেজি শিক্ষক সমতল গাইন বলেন, “রবিউল অত্যন্ত মেধাবী ও দায়িত্বশীল ছাত্র। আর্থিক সংকটে তার পড়াশোনা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিত্তবান ও মানবিক হৃদয়সম্পন্ন মানুষ এগিয়ে এলে ছেলেটি ভবিষ্যতে অনেক দূর যেতে পারবে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিন জানান, “রবিউলের বিষয়টি জানার পর আমরা নজর রেখেছি। রবিউল বা তার পরিবার আবেদন করলে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি তার অসুস্থ মাকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালকিনি,ডাসার উপজেলা প্রতিনিধিঃ 


















