০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় কোজাগরী পূর্ণিমায় আলোকিত ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭৮ Time View

স্টাফরিপোর্টারঃ
মাগুরার চার উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা।আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত এই পূজায় ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।(৬ অক্টোবর) গ্রামীণ জনপদ থেকে শহরের অট্টালিকা—সবখানেই সজ্জিত হচ্ছে ঘরবাড়ি,উঠোনে জ্বলছে প্রদীপ,ভেসে আসছে ধূপের গন্ধ আর ভক্তিময় সুর।
বাংলার ঘরে ঘরে শত শত বছর ধরে চলে আসছে এই পূজা।বিশ্বাস করা হয়,কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসেন,যিনি জেগে থেকে তাঁকে আহ্বান জানান,তাঁর ঘরে বর্ষিত হয় সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি।তাই একে বলা হয় ‘কোজাগরী’—অর্থাৎ “কে জাগো রে?”
প্রভাত থেকেই শুরু হয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার আয়োজন। নারীরা ঘরের উঠোনে আলপনা আঁকেন, ধান-চাল দিয়ে বানানো লক্ষ্মীর পা এঁকে রাখেন ঘরের দোরগোড়ায়।পূজার বেদিতে ধানের শীষ,কলা, মিষ্টান্ন,নারকেল ও নানা ফল সাজানো হয়।
লক্ষ্মীপূজা শুধু ধর্মীয় নয়, এটি বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।নতুন ধান ঘরে ওঠার আগে কৃষকরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন যেন ঘরে শস্যের অভাব না হয়।এই পূজা পারিবারিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
তবে ভক্তির আবহ সর্বত্র এক—সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা।কোজাগরী পূর্ণিমা শুধু পূজার আচার নয়, এটি আলো ও ইতিবাচকতার উৎসব।অন্ধকার দূর করে মন ও সংসার আলোকিত করার আহ্বান জানায় এই দিনটি।
আজকের এই শুভ রাতে সবার জীবনে আসুক দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ—আলো,সম্পদ ও শান্তিতে ভরে উঠুক প্রতিটি ঘর।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

মাগুরায় কোজাগরী পূর্ণিমায় আলোকিত ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা

Update Time : ১১:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফরিপোর্টারঃ
মাগুরার চার উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা।আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত এই পূজায় ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।(৬ অক্টোবর) গ্রামীণ জনপদ থেকে শহরের অট্টালিকা—সবখানেই সজ্জিত হচ্ছে ঘরবাড়ি,উঠোনে জ্বলছে প্রদীপ,ভেসে আসছে ধূপের গন্ধ আর ভক্তিময় সুর।
বাংলার ঘরে ঘরে শত শত বছর ধরে চলে আসছে এই পূজা।বিশ্বাস করা হয়,কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসেন,যিনি জেগে থেকে তাঁকে আহ্বান জানান,তাঁর ঘরে বর্ষিত হয় সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি।তাই একে বলা হয় ‘কোজাগরী’—অর্থাৎ “কে জাগো রে?”
প্রভাত থেকেই শুরু হয় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার আয়োজন। নারীরা ঘরের উঠোনে আলপনা আঁকেন, ধান-চাল দিয়ে বানানো লক্ষ্মীর পা এঁকে রাখেন ঘরের দোরগোড়ায়।পূজার বেদিতে ধানের শীষ,কলা, মিষ্টান্ন,নারকেল ও নানা ফল সাজানো হয়।
লক্ষ্মীপূজা শুধু ধর্মীয় নয়, এটি বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।নতুন ধান ঘরে ওঠার আগে কৃষকরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন যেন ঘরে শস্যের অভাব না হয়।এই পূজা পারিবারিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
তবে ভক্তির আবহ সর্বত্র এক—সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা।কোজাগরী পূর্ণিমা শুধু পূজার আচার নয়, এটি আলো ও ইতিবাচকতার উৎসব।অন্ধকার দূর করে মন ও সংসার আলোকিত করার আহ্বান জানায় এই দিনটি।
আজকের এই শুভ রাতে সবার জীবনে আসুক দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ—আলো,সম্পদ ও শান্তিতে ভরে উঠুক প্রতিটি ঘর।