স্টাফ রিপোর্টার :
ঢাকার আশুলিয়ায় পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের মামলায় সহপাঠী দেলোয়ার ভূঁইয়াকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ সাহা উৎসকে তিন দিন এবং অন্তু দেওয়ানকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে অন্তু দেওয়ান ক্যাম্পাসের সিনিয়র। অপর তিন আসামি ভুক্তভোগীর সহপাঠী।
নয় মাস আগের ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পিকনিকের নামে ডেকে নিয়ে গিয়ে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক পান করিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ ছাড়াও ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পর বুধবার আশুলিয়ার ফুলে রটেক এলাকার একটি মেস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার শুনানিকালে দেলোয়ারকে আদালতে হাজির করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এইচ কৃষ্ণ বলেছেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আমরা বাদীপক্ষ থেকে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করি। আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৭ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। পথিমধ্যে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খওয়ালে কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ওইদিন বিকাল ৫ টার দিকে জ্ঞান ফিরলে আসামিদের ফুলের টেকের মেছে নিজেকে দেখতে পান ভুক্তভোগী। তখন বুঝতে পারেন তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। এসময় ওই শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনার পর জিম্মি করে একাধিক ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। ঘটনা সেখানেই শেষ হয়নি তুলে ধরে মামলায় বলা হয়, গত ৪ নভেম্বর তাকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসামিরা।
পরে গত ৬ নভেম্বর আসামি অন্তু দেওয়ানের নির্দেশনায় হুমকি ও অন্তু দেওয়ানের সাথে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এলোপাথারি চড় থাপ্পর দিয়ে টেনেহিঁচড়ে অন্তু দেওয়ানের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আবারও বোতলে থাকা বিষাক্ত নেশাজাতীয় পানীয় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক খেতে বাধ্য করে।
ঘটনার পর কোনোমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেলে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আসামিরা আবারও চড়াও হন। গত ২৬ নভেম্বর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে লিখিত অভিযোগটি তুলে নিতে হুমকি দেয় আসামিরা। পরে ২ ডিসেম্বর মামলা করেন তিনি।
Reporter Name 


















