০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্থায়ী ডিলার না থাকায় দুর্ভোগে সুবিধাভোগী পরিবার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রাম বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ডিলার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবার। সরকারের স্বল্পমূল্যের চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি যাতায়াত ব্যয়, সময়ের অপচয় এবং তথ্যসংকটের কারণে নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা।

জানা গেছে, গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউনিটের কুচিয়াগ্রাম বাজার খাদ্যবান্ধব বিক্রয়কেন্দ্রের আওতায় বর্তমানে ৪২৯ জন কার্ডধারী রয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটিতে কোনো স্থায়ী ডিলার নিয়োগ না থাকায় পাশের এলাকার ডিলার অথবা সাময়িক ব্যবস্থার মাধ্যমে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সুবিধাভোগীদের নির্ধারিত সময়ে চাল সংগ্রহে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে সরকারের ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নিজ এলাকায় স্থায়ী ডিলার না থাকায় অনেক সুবিধাভোগীকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহনের পাশাপাশি দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ডিলার না থাকায় চাল বিতরণের সময়সূচি ও স্থান সম্পর্কে অনেক সময় কার্ডধারীরা সঠিক তথ্য পান না। ফলে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পেরে সরকারি এ সুবিধা গ্রহণে বিড়ম্বনার শিকার হন।

ভুক্তভোগী কার্ডধারী আসাদুজ্জামান মোল্যা, দাউদ মোল্যা ও মালা বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় স্থায়ী ডিলার থাকলে সহজেই চাল সংগ্রহ করতে পারতাম। এখন অন্য এলাকায় যেতে হয়। এতে দিনমজুরির কাজ নষ্ট হয়, বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়। অনেক সময় আবার চাল বিতরণের খবরও সময়মতো জানতে পারি না। ফলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মকিবুল হোসেন বলেন, স্থায়ী ডিলার না থাকায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত একজন স্থায়ী ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ওই বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য স্থায়ী ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

আলফাডাঙ্গায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্থায়ী ডিলার না থাকায় দুর্ভোগে সুবিধাভোগী পরিবার

Update Time : ০৬:৩৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রাম বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ডিলার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবার। সরকারের স্বল্পমূল্যের চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি যাতায়াত ব্যয়, সময়ের অপচয় এবং তথ্যসংকটের কারণে নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা।

জানা গেছে, গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউনিটের কুচিয়াগ্রাম বাজার খাদ্যবান্ধব বিক্রয়কেন্দ্রের আওতায় বর্তমানে ৪২৯ জন কার্ডধারী রয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটিতে কোনো স্থায়ী ডিলার নিয়োগ না থাকায় পাশের এলাকার ডিলার অথবা সাময়িক ব্যবস্থার মাধ্যমে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সুবিধাভোগীদের নির্ধারিত সময়ে চাল সংগ্রহে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে সরকারের ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নিজ এলাকায় স্থায়ী ডিলার না থাকায় অনেক সুবিধাভোগীকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহনের পাশাপাশি দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ডিলার না থাকায় চাল বিতরণের সময়সূচি ও স্থান সম্পর্কে অনেক সময় কার্ডধারীরা সঠিক তথ্য পান না। ফলে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পেরে সরকারি এ সুবিধা গ্রহণে বিড়ম্বনার শিকার হন।

ভুক্তভোগী কার্ডধারী আসাদুজ্জামান মোল্যা, দাউদ মোল্যা ও মালা বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় স্থায়ী ডিলার থাকলে সহজেই চাল সংগ্রহ করতে পারতাম। এখন অন্য এলাকায় যেতে হয়। এতে দিনমজুরির কাজ নষ্ট হয়, বাড়তি ভাড়াও গুনতে হয়। অনেক সময় আবার চাল বিতরণের খবরও সময়মতো জানতে পারি না। ফলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মকিবুল হোসেন বলেন, স্থায়ী ডিলার না থাকায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত একজন স্থায়ী ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলে মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ওই বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য স্থায়ী ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।