০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের পর হত্যা সীমান্ত থেকে মূল আসামি গ্রেপ্তার আদালতে স্বীকারোক্তি।


ঢাকার সাভারে এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সাভার মডেল থানার বড়দেশী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ৩৯ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার শিকার হন। পরে তার মরদেহ শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৩ জুলাই সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ৮ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. খালেদ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. মাসুম ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ১৪ জুলাই কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইর তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম ইসলাম প্রজাপতি পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সাভারের কাতলাপুর এলাকায় তার বাবার চায়ের দোকানেও কাজ করতেন। ওই দোকানের পেছনের একটি ভাড়া বাসায় ভুক্তভোগী বসবাস করতেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ভুক্তভোগী বড়দেশী এলাকায় নতুন বাসায় ওঠার পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ঘটনার আগের রাতে মোবাইল ফোনে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর বাসায় যান। সেখানে আবারও বিরোধের একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে শারীরিক সম্পর্কের আলামত এবং একটি সিগারেটের খোসাসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফরেনসিক, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং মূল আসামিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরে সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যত দূরেই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গায় এক খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক খুন, ২৩ জনের নামে হত্যা মামলা

ধর্ষণের পর হত্যা সীমান্ত থেকে মূল আসামি গ্রেপ্তার আদালতে স্বীকারোক্তি।

Update Time : ০৬:২০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


ঢাকার সাভারে এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সাভার মডেল থানার বড়দেশী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ৩৯ বছর বয়সী এক নারী ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার শিকার হন। পরে তার মরদেহ শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৩ জুলাই সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ৮ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. খালেদ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামত, মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে মো. মাসুম ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ১৪ জুলাই কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইর তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম ইসলাম প্রজাপতি পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সাভারের কাতলাপুর এলাকায় তার বাবার চায়ের দোকানেও কাজ করতেন। ওই দোকানের পেছনের একটি ভাড়া বাসায় ভুক্তভোগী বসবাস করতেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তদন্তে আরও জানা যায়, ভুক্তভোগী বড়দেশী এলাকায় নতুন বাসায় ওঠার পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ঘটনার আগের রাতে মোবাইল ফোনে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর বাসায় যান। সেখানে আবারও বিরোধের একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে শারীরিক সম্পর্কের আলামত এবং একটি সিগারেটের খোসাসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফরেনসিক, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং মূল আসামিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরে সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যত দূরেই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।