০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় এক খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক খুন, ২৩ জনের নামে হত্যা মামলা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে ভাতিজা হত্যার আড়াই মাসের মাথায় চাচা রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবিকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবির ভাতিজা নাজমুল শেখ (৫০) বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রবিউল ইসলাম শেখ ও আরও তিনজনের ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে ঘটনাস্থলেই রবির মৃত্যু হয়। আহত হন মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। তাঁদের মধ্যে মোক্তার ও হৃদয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত রবি বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এর আগে গত ২৬ জুন একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় রবির ভাতিজা সুমন শেখ (২৪) নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কয়েকজন সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অপূর্ব সাহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারে ২৩ জনের নাম রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে।

রবিউল হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গায় এক খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক খুন, ২৩ জনের নামে হত্যা মামলা

আলফাডাঙ্গায় এক খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক খুন, ২৩ জনের নামে হত্যা মামলা

Update Time : ০৫:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে ভাতিজা হত্যার আড়াই মাসের মাথায় চাচা রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবিকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবির ভাতিজা নাজমুল শেখ (৫০) বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রবিউল ইসলাম শেখ ও আরও তিনজনের ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে ঘটনাস্থলেই রবির মৃত্যু হয়। আহত হন মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। তাঁদের মধ্যে মোক্তার ও হৃদয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত রবি বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এর আগে গত ২৬ জুন একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় রবির ভাতিজা সুমন শেখ (২৪) নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কয়েকজন সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অপূর্ব সাহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারে ২৩ জনের নাম রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে।

রবিউল হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।