০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোল্লাপাড়া থেকে ঢাকার সবুজ গালিচায়: ফুটবলের মাঠ কাঁপানো নায়ক কোহিনুর রহমান


কুড়িগ্রাম শহরের মোল্লাপাড়া। ১৯৫৯ সালের ১১ মার্চ। আব্দুল খালেক মোল্লা ও শামসুন নাহার দম্পতির ১৪ সন্তানের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন কোহিনুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দুরন্ত, চঞ্চল ও খেলাধুলাপ্রিয়। পড়াশোনায় খুব বেশি মনোযোগী না হলেও কখনো অকৃতকার্য হননি। তবে তাঁর হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাথলেটিক্স ও ফুটবল। সেই ভালোবাসাই একসময় তাঁকে নিয়ে যায় ঢাকার ফুটবল অঙ্গনে। হয়ে ওঠেন দেশের ক্লাব ফুটবলের পরিচিত ও আলোচিত এক মুখ।

কোহিনুর রহমানের ক্রীড়াজীবনের সূচনা কুড়িগ্রামের মাটিতেই। ১৯৭২ সালে কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন কুড়িগ্রাম কলেজে। ১৯৭৩ সালে কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পাঁচটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যের পরিচয় দেন তিনি। সে সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাথলেট সিরাজুল ইসলাম টুকুর সঙ্গে ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। অন্যান্য ইভেন্টেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।

সেই সময় থেকেই কুড়িগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি পেতে শুরু করেন কোহিনুর। তবে তাঁর ভাগ্যে যে ঢাকার বড় ফুটবল মাঠে খেলার সুযোগ অপেক্ষা করছিল, তা তখনো কেউ কল্পনা করেননি।

যেভাবে পাড়ি জমালেন ঢাকায় ১৯৭৪ সালে কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষার রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করে বন্ধু দেবু দাদার সঙ্গে বিকেলে ফিরছিলেন কোহিনুর। একটি পূজাপার্বণ উপলক্ষে দুধ সরবরাহের বিষয়ে কথা বলতে তাঁরা তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মনসুর আলী টুংকুর ঘোষপাড়ার বাসভবনে যান। সেখানে দুধ সরবরাহের বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে বচসায় রূপ নেয়।

ঘটনার পর পুলিশি ঝামেলার আশঙ্কায় বন্ধু দেবু দাদা নাটোরে তাঁর নানা বাড়িতে চলে যান। আর কোহিনুর রহমান আশ্রয় নেন ঢাকার ওয়ারীতে বসবাসরত বড় বোন নিলুফারের বাসায়। এরপর ঢাকাতেই থেকে যান তিনি। এইচএসসি পাস করে জগন্নাথ কলেজে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।

মাত্র পাঁচ মিনিটেই নজর কাড়েন কোচের ১৯৭৫ সাল। ঢাকার স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক সুযোগ পেয়ে যান কোহিনুর রহমান। সেদিন সেখানে দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সাধারণ বীমা ফুটবল দলের খেলোয়াড় বাছাই চলছিল। ফুটবলের প্রতি অদম্য ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস থেকে তিনি সরাসরি কোচের কাছে গিয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কোচ তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। পরদিন মাঠে নেমে মাত্র পাঁচ মিনিটের খেলাতেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন কোহিনুর। তাঁর দক্ষতা ও খেলার ধরন দেখে মুগ্ধ হন কোচ। সুযোগ মেলে সাধারণ বীমা দলে।

দ্বিতীয় বিভাগের এই ক্লাব থেকেই শুরু হয় তাঁর ঢাকার ফুটবলজীবন। ১৯৭৫ সালে সাধারণ বীমা ক্লাবকে রানার্সআপ করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স দ্রুতই নজর কাড়ে ঢাকার বড় বড় ক্লাবের।

তবে বড় ক্লাবে গিয়ে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকার চেয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেন কোহিনুর। সেই বিবেচনায় যোগ দেন শান্তিনগর ক্লাবে। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি।

শান্তিনগর থেকে মোহামেডানের সাদা-কালো জার্সিতে ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে টানা দুই বছর শান্তিনগর ক্লাবে খেলার পর ১৯৭৮ সালে যোগ দেন ওয়াপদা ক্লাবে। এরপর ১৯৭৯ সালে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দিয়ে নিজের ফুটবলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেন।

মোহামেডানের হয়ে টানা ছয় বছর দাপটের সঙ্গে খেলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও নৈপুণ্যের মাধ্যমে অর্জন করেন বিশেষ পরিচিতি। জাতীয় দলের হয়েও ফুটবল খেলার সুযোগ পান। বাংলাদেশ ও মোহামেডান দলের হয়ে মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। দেশের ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকার মর্যাদা তুলে ধরেন।

ফুটবলের স্বর্ণযুগের স্মৃতিতে আজও আবেগাপ্লুত ।

গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে এক আলাপচারিতায় নিজের ফুটবলজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন কোহিনুর রহমান। কথায় কথায় ফিরে যান দেশের ফুটবলের সেই স্বর্ণালি সময়ে।

স্মৃতিচারণে উঠে আসে আবাহনীর সালাউদ্দিন, চুন্নু, কাজী আনোয়ার ও ইউসুফের মতো তারকা ফুটবলারের নাম। পাশাপাশি মোহামেডানের মেজর হাফিজ, এনায়েত, শান্টু, মোসাব্বের, সালাম, বাদল রায় ও গাফফারের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

তাঁর স্মৃতিতে সেই সময়ের ফুটবল মানেই ছিল মাঠভরা দর্শক, ক্লাবগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, খেলোয়াড়দের অসাধারণ নৈপুণ্য এবং ফুটবলকে ঘিরে মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

প্রবাসে থেকেও হৃদয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ।
বর্তমানে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন কোহিনুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত রয়েছে তাঁর। তবে জন্মভূমি কুড়িগ্রামের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের ফুটবলের প্রতি টান এখনো অটুট।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসেও তাঁর প্রত্যাশা, ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রামের মাঠে আবারও ফিরে আসুক ফুটবলের হারানো উন্মাদনা। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় আগ্রহী হোক, ফুটবল মাঠে তৈরি হোক নতুন নতুন প্রতিভা।

কুড়িগ্রামের মোল্লাপাড়ার সেই দুরন্ত কিশোর কোহিনুর রহমান আজ শুধু একটি নাম নন; তিনি একটি সময়ের ফুটবল ইতিহাসের অংশ। স্থানীয় মাঠের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের জার্সি—তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা প্রমাণ করে, প্রতিভা, সাহস ও অধ্যবসায় থাকলে প্রত্যন্ত জনপদ থেকেও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

কুড়িগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে কোহিনুর রহমান তাই এক স্মরণীয় নাম, এক মাঠজয়ী নায়ক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বালিয়াকান্দিতে আদালতে বিচারাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

মোল্লাপাড়া থেকে ঢাকার সবুজ গালিচায়: ফুটবলের মাঠ কাঁপানো নায়ক কোহিনুর রহমান

Update Time : ০৬:০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬


কুড়িগ্রাম শহরের মোল্লাপাড়া। ১৯৫৯ সালের ১১ মার্চ। আব্দুল খালেক মোল্লা ও শামসুন নাহার দম্পতির ১৪ সন্তানের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন কোহিনুর রহমান। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দুরন্ত, চঞ্চল ও খেলাধুলাপ্রিয়। পড়াশোনায় খুব বেশি মনোযোগী না হলেও কখনো অকৃতকার্য হননি। তবে তাঁর হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাথলেটিক্স ও ফুটবল। সেই ভালোবাসাই একসময় তাঁকে নিয়ে যায় ঢাকার ফুটবল অঙ্গনে। হয়ে ওঠেন দেশের ক্লাব ফুটবলের পরিচিত ও আলোচিত এক মুখ।

কোহিনুর রহমানের ক্রীড়াজীবনের সূচনা কুড়িগ্রামের মাটিতেই। ১৯৭২ সালে কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন কুড়িগ্রাম কলেজে। ১৯৭৩ সালে কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পাঁচটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে নিজের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যের পরিচয় দেন তিনি। সে সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাথলেট সিরাজুল ইসলাম টুকুর সঙ্গে ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। অন্যান্য ইভেন্টেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।

সেই সময় থেকেই কুড়িগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি পেতে শুরু করেন কোহিনুর। তবে তাঁর ভাগ্যে যে ঢাকার বড় ফুটবল মাঠে খেলার সুযোগ অপেক্ষা করছিল, তা তখনো কেউ কল্পনা করেননি।

যেভাবে পাড়ি জমালেন ঢাকায় ১৯৭৪ সালে কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষার রসায়ন ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করে বন্ধু দেবু দাদার সঙ্গে বিকেলে ফিরছিলেন কোহিনুর। একটি পূজাপার্বণ উপলক্ষে দুধ সরবরাহের বিষয়ে কথা বলতে তাঁরা তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মনসুর আলী টুংকুর ঘোষপাড়ার বাসভবনে যান। সেখানে দুধ সরবরাহের বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে বচসায় রূপ নেয়।

ঘটনার পর পুলিশি ঝামেলার আশঙ্কায় বন্ধু দেবু দাদা নাটোরে তাঁর নানা বাড়িতে চলে যান। আর কোহিনুর রহমান আশ্রয় নেন ঢাকার ওয়ারীতে বসবাসরত বড় বোন নিলুফারের বাসায়। এরপর ঢাকাতেই থেকে যান তিনি। এইচএসসি পাস করে জগন্নাথ কলেজে বিএ পাস কোর্সে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।

মাত্র পাঁচ মিনিটেই নজর কাড়েন কোচের ১৯৭৫ সাল। ঢাকার স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক সুযোগ পেয়ে যান কোহিনুর রহমান। সেদিন সেখানে দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সাধারণ বীমা ফুটবল দলের খেলোয়াড় বাছাই চলছিল। ফুটবলের প্রতি অদম্য ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস থেকে তিনি সরাসরি কোচের কাছে গিয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কোচ তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। পরদিন মাঠে নেমে মাত্র পাঁচ মিনিটের খেলাতেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন কোহিনুর। তাঁর দক্ষতা ও খেলার ধরন দেখে মুগ্ধ হন কোচ। সুযোগ মেলে সাধারণ বীমা দলে।

দ্বিতীয় বিভাগের এই ক্লাব থেকেই শুরু হয় তাঁর ঢাকার ফুটবলজীবন। ১৯৭৫ সালে সাধারণ বীমা ক্লাবকে রানার্সআপ করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স দ্রুতই নজর কাড়ে ঢাকার বড় বড় ক্লাবের।

তবে বড় ক্লাবে গিয়ে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকার চেয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেন কোহিনুর। সেই বিবেচনায় যোগ দেন শান্তিনগর ক্লাবে। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি।

শান্তিনগর থেকে মোহামেডানের সাদা-কালো জার্সিতে ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে টানা দুই বছর শান্তিনগর ক্লাবে খেলার পর ১৯৭৮ সালে যোগ দেন ওয়াপদা ক্লাবে। এরপর ১৯৭৯ সালে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দিয়ে নিজের ফুটবলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেন।

মোহামেডানের হয়ে টানা ছয় বছর দাপটের সঙ্গে খেলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও নৈপুণ্যের মাধ্যমে অর্জন করেন বিশেষ পরিচিতি। জাতীয় দলের হয়েও ফুটবল খেলার সুযোগ পান। বাংলাদেশ ও মোহামেডান দলের হয়ে মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। দেশের ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকার মর্যাদা তুলে ধরেন।

ফুটবলের স্বর্ণযুগের স্মৃতিতে আজও আবেগাপ্লুত ।

গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে এক আলাপচারিতায় নিজের ফুটবলজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন কোহিনুর রহমান। কথায় কথায় ফিরে যান দেশের ফুটবলের সেই স্বর্ণালি সময়ে।

স্মৃতিচারণে উঠে আসে আবাহনীর সালাউদ্দিন, চুন্নু, কাজী আনোয়ার ও ইউসুফের মতো তারকা ফুটবলারের নাম। পাশাপাশি মোহামেডানের মেজর হাফিজ, এনায়েত, শান্টু, মোসাব্বের, সালাম, বাদল রায় ও গাফফারের মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

তাঁর স্মৃতিতে সেই সময়ের ফুটবল মানেই ছিল মাঠভরা দর্শক, ক্লাবগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, খেলোয়াড়দের অসাধারণ নৈপুণ্য এবং ফুটবলকে ঘিরে মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

প্রবাসে থেকেও হৃদয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ।
বর্তমানে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন কোহিনুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত রয়েছে তাঁর। তবে জন্মভূমি কুড়িগ্রামের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের ফুটবলের প্রতি টান এখনো অটুট।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসেও তাঁর প্রত্যাশা, ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রামের মাঠে আবারও ফিরে আসুক ফুটবলের হারানো উন্মাদনা। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায় আগ্রহী হোক, ফুটবল মাঠে তৈরি হোক নতুন নতুন প্রতিভা।

কুড়িগ্রামের মোল্লাপাড়ার সেই দুরন্ত কিশোর কোহিনুর রহমান আজ শুধু একটি নাম নন; তিনি একটি সময়ের ফুটবল ইতিহাসের অংশ। স্থানীয় মাঠের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের জার্সি—তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা প্রমাণ করে, প্রতিভা, সাহস ও অধ্যবসায় থাকলে প্রত্যন্ত জনপদ থেকেও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

কুড়িগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে কোহিনুর রহমান তাই এক স্মরণীয় নাম, এক মাঠজয়ী নায়ক।