০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত

0-0x0-0-0#

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বারুনী স্নানের মাধ্যমে পাপমোচনের বিশ্বাসকে ধারণ করে হাজার-হাজার হিন্দু ধর্মালম্বী পূণ্যার্থী এ স্নানে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখানে ভারতের কলকাতা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৭ থেকে যথাযথ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে হাজার হাজার পূণ্যার্থী নারী-পুরুষ এই মহা বারুনী স্নানোৎসবে অংশ নেন। এ বারুনী স্নানোৎসবকে ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী মেল শুরু হয়েছে আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে। প্রতিবছর ৭ দিনব্যাপী এই মেলা হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সাত হতে দশদিন পর্যন্ত এ মেলা চলতে থাকে। অনুকূল পরিবেশ থাকলে মেলা সাত হতে দশদিন পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরিচার যমুনা নদীর পাড়ে ও তীরে বিশাল চরে বসা ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজ-সজ্জার নানা দোকান, বাশ-কাঠের সামগ্রী, বেত-তালাই পণ্য, মাটির বিভিন্ন সামগ্রী, লোহার তৈরি আসবাবপত্রসহ গৃহকাজে ব্যবহার্য্য সামগ্রীর দোকান, মিষ্টি, বিন্নি, খৈই, আখড়া, সাজ, বাতাসাসহ নানা ধরনের খাদ্য সামগ্রীর দোকান বসেছে এই মেলায়।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফন্টের শিবালয় উপজেলার আহ্বায়ক নিখিল কুমার মালো বলেন, আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে প্রায় ২০০ বছর ধরে এ স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই স্নানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিনের পাপমোচন হয়। সপরিবার-আত্মীয়স্বজন নিয়ে স্নান করতে এসেছি।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, এই বারুনী স্নান উৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হলেও মেলাকে ঘিরে প্রায় সকল ধর্মের মানুষের সোহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের বন্দর কমিটি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পৌরহিত নারায়ণ চক্রবর্ত্তী ওরফে নারায়ণ ঠাকুর বলেন, এ বারুনী স্নান প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য। বৃহস্পতিবার সকাল ৭ মিনিট থেকে এই মহা বারুনী গঙ্গা স্নান শুরু হয়েছে । চৈত্র মাসের মধু কৃঞ্চ ত্রয়োদশ তীথিতে এই মহা গঙ্গা-বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী মো. আলাল উদ্দিন আলাল জানান, কয়েক শ বছরের ঐতিহ্য এই বারুণী গঙ্গা স্নান শিবালয়ে যমুনার পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই স্নান হিন্দু ধর্মালম্বীরা উদযাপন করে থাকেন। প্রতিবছরের মতো এবারও স্নান ভালোভাবে হয়েছে এবং মেলাও সুন্দর ও সফলভাবে হবে এটাই আমি সকলের কাছে প্রত্যাশা করছি। ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করে থাকি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ঐদিহ্যবাহী স্নান ও বারুনির মেলায় নিরাপত্তায় প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। পূর্ব থেকে এই মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদা তোলার অভিযোগ ছিল। মেলার আয়োজক, পুলিশ, বন্দর সমিতি, দলীয় নেতৃবৃন্ধদের নিয়ে মিটিং করে মেলায় আগত সকল দোকানিদের খাজনা মওকুফ করা হয়েছে। যদি কেউ এ মেলা থেকে কোনো প্রকার চাঁদা দাবি করে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সার্ক গঠন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানে শহীদ জিয়ার অবদান অনন্য — খন্দকার নাসিরুল ইসলাম

শিবালয়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৫:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা ঘাটে যমুনা নদীর তীরে সনাতন ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বারুনী স্নানের মাধ্যমে পাপমোচনের বিশ্বাসকে ধারণ করে হাজার-হাজার হিন্দু ধর্মালম্বী পূণ্যার্থী এ স্নানে অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখানে ভারতের কলকাতা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৭ থেকে যথাযথ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে হাজার হাজার পূণ্যার্থী নারী-পুরুষ এই মহা বারুনী স্নানোৎসবে অংশ নেন। এ বারুনী স্নানোৎসবকে ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী মেল শুরু হয়েছে আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে। প্রতিবছর ৭ দিনব্যাপী এই মেলা হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সাত হতে দশদিন পর্যন্ত এ মেলা চলতে থাকে। অনুকূল পরিবেশ থাকলে মেলা সাত হতে দশদিন পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরিচার যমুনা নদীর পাড়ে ও তীরে বিশাল চরে বসা ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় হ্যান্ডিক্রাফট, খেলনা, প্রসাধনী, সাজ-সজ্জার নানা দোকান, বাশ-কাঠের সামগ্রী, বেত-তালাই পণ্য, মাটির বিভিন্ন সামগ্রী, লোহার তৈরি আসবাবপত্রসহ গৃহকাজে ব্যবহার্য্য সামগ্রীর দোকান, মিষ্টি, বিন্নি, খৈই, আখড়া, সাজ, বাতাসাসহ নানা ধরনের খাদ্য সামগ্রীর দোকান বসেছে এই মেলায়।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফন্টের শিবালয় উপজেলার আহ্বায়ক নিখিল কুমার মালো বলেন, আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে প্রায় ২০০ বছর ধরে এ স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই স্নানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিনের পাপমোচন হয়। সপরিবার-আত্মীয়স্বজন নিয়ে স্নান করতে এসেছি।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, এই বারুনী স্নান উৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হলেও মেলাকে ঘিরে প্রায় সকল ধর্মের মানুষের সোহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের বন্দর কমিটি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পৌরহিত নারায়ণ চক্রবর্ত্তী ওরফে নারায়ণ ঠাকুর বলেন, এ বারুনী স্নান প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য। বৃহস্পতিবার সকাল ৭ মিনিট থেকে এই মহা বারুনী গঙ্গা স্নান শুরু হয়েছে । চৈত্র মাসের মধু কৃঞ্চ ত্রয়োদশ তীথিতে এই মহা গঙ্গা-বারুনী স্নান অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী মো. আলাল উদ্দিন আলাল জানান, কয়েক শ বছরের ঐতিহ্য এই বারুণী গঙ্গা স্নান শিবালয়ে যমুনার পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই স্নান হিন্দু ধর্মালম্বীরা উদযাপন করে থাকেন। প্রতিবছরের মতো এবারও স্নান ভালোভাবে হয়েছে এবং মেলাও সুন্দর ও সফলভাবে হবে এটাই আমি সকলের কাছে প্রত্যাশা করছি। ইউনিয়ন পরিষদ ও বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করে থাকি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ঐদিহ্যবাহী স্নান ও বারুনির মেলায় নিরাপত্তায় প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। পূর্ব থেকে এই মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদা তোলার অভিযোগ ছিল। মেলার আয়োজক, পুলিশ, বন্দর সমিতি, দলীয় নেতৃবৃন্ধদের নিয়ে মিটিং করে মেলায় আগত সকল দোকানিদের খাজনা মওকুফ করা হয়েছে। যদি কেউ এ মেলা থেকে কোনো প্রকার চাঁদা দাবি করে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।