১১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক ও শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এক সাংবাদিক ও এক স্কুল শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের সাংবাদিক পীযূষ পাল ও স্কুল শিক্ষক পঙ্কজ পালের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার চঞ্চল পালের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্ত চঞ্চল পাল বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ এবং নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত অবস্থায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের ঘরবাড়ি, পূজামণ্ডপ ও চারপাশের বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এর আগে চঞ্চল পাল ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে সেসব মামলায় আদালতে সুবিধা করতে না পেরে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩০ মে পূর্বশত্রুতার জেরে চঞ্চল পাল অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক পীযূষ পাল ও শিক্ষক পঙ্কজ পালের ওপর হামলা চালান। হামলায় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো যথাসময়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে ঘিওর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আহতদের চিকিৎসা গ্রহণের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সার্ক গঠন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানে শহীদ জিয়ার অবদান অনন্য — খন্দকার নাসিরুল ইসলাম

সাংবাদিক ও শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

Update Time : ০৭:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এক সাংবাদিক ও এক স্কুল শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের সাংবাদিক পীযূষ পাল ও স্কুল শিক্ষক পঙ্কজ পালের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার চঞ্চল পালের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্ত চঞ্চল পাল বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন আচরণ এবং নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত অবস্থায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের ঘরবাড়ি, পূজামণ্ডপ ও চারপাশের বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এর আগে চঞ্চল পাল ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে সেসব মামলায় আদালতে সুবিধা করতে না পেরে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩০ মে পূর্বশত্রুতার জেরে চঞ্চল পাল অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক পীযূষ পাল ও শিক্ষক পঙ্কজ পালের ওপর হামলা চালান। হামলায় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো যথাসময়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

এ বিষয়ে ঘিওর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আহতদের চিকিৎসা গ্রহণের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।