০৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় সাক্ষী দেওয়ার জেরে প্রবীণ এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে পূর্বের একটি মামলায় সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুটি মোল্যা (৬৪) নামে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন বিকেলে আহত কুটি মোল্যা তার ছেলে রবিন মোল্যার মাধ্যমে আলফাডাঙ্গা থানায় ইসমাইল মোল্যাসহ ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় শামচু মোল্যার সঙ্গে ইসমাইল মোল্যার জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলায় কুটি মোল্যা সাক্ষী ছিলেন। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলেঞ্চা বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে টিকরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের বাড়ির সামনের ইটের সড়কে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, এসএস পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর জখম এবং হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার শার্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ সময় আহতকে উদ্ধার করতে গেলে তার পুত্রবধূ ইয়াসমিন বেগমকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং তার গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় মামলা করলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, দেশছাড়া করা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত কুটি মোল্যাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আবিদ হাসান জানান, আহত কুটি মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং ডান পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পি মোল্যাসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কুটি মোল্যাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযুক্ত ইসমাইল মোল্যার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো. আল আমিন বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাগুরায় নকল কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

আলফাডাঙ্গায় সাক্ষী দেওয়ার জেরে প্রবীণ এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

Update Time : ১২:০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে পূর্বের একটি মামলায় সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুটি মোল্যা (৬৪) নামে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন বিকেলে আহত কুটি মোল্যা তার ছেলে রবিন মোল্যার মাধ্যমে আলফাডাঙ্গা থানায় ইসমাইল মোল্যাসহ ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় শামচু মোল্যার সঙ্গে ইসমাইল মোল্যার জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলায় কুটি মোল্যা সাক্ষী ছিলেন। ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলেঞ্চা বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে টিকরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের বাড়ির সামনের ইটের সড়কে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, এসএস পাইপ, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর জখম এবং হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার শার্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ সময় আহতকে উদ্ধার করতে গেলে তার পুত্রবধূ ইয়াসমিন বেগমকে মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং তার গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় মামলা করলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, দেশছাড়া করা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত কুটি মোল্যাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আবিদ হাসান জানান, আহত কুটি মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার ডান হাত ভেঙে গেছে এবং ডান পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পি মোল্যাসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কুটি মোল্যাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযুক্ত ইসমাইল মোল্যার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য পলাশ মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো. আল আমিন বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।