০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় একাধিক মামলার আসামি ‘কিলার সিকদার’ গ্রেপ্তার।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৩ Time View

প্রতিবেদক : শাহীনুল হক।


ঢাকার আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, নিরীহ মানুষদের নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি আইয়ুব আলী সিকদার ওরফে ‘কিলার শিকদার’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান। এর আগে, রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন আইয়ুব আলী সিকদার। এর আগেও তার বিরুদ্ধে জমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার নবাব স্টেট এলাকায় প্রায় ২১ একর জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা এবং জমির মালিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে গত ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় তিনি সরাসরি গুলি চালিয়েছেন এবং ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের হয়ে অস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দলীয় পরিচয় ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনই ছিল তার মূল কার্যক্রম। তার সঙ্গে আরও অন্তত ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত, যাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

অপহরণ মামলার বাদী মো. বশির হাওলাদার জানান, গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিকদার ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। সেখানে তাকে মারধর করে ২১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয় এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়া হয়।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আইয়ুব আলী সিকদারের মতো প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাধারণ মানুষের জমি দখল বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাহস না পায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলার আসামি আইয়ুব আলী সিকদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, অপহরণ ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

আশুলিয়ায় একাধিক মামলার আসামি ‘কিলার সিকদার’ গ্রেপ্তার।

Update Time : ০৭:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

প্রতিবেদক : শাহীনুল হক।


ঢাকার আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, নিরীহ মানুষদের নির্যাতন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি আইয়ুব আলী সিকদার ওরফে ‘কিলার শিকদার’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান। এর আগে, রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন আইয়ুব আলী সিকদার। এর আগেও তার বিরুদ্ধে জমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার নবাব স্টেট এলাকায় প্রায় ২১ একর জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা এবং জমির মালিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে গত ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় তিনি সরাসরি গুলি চালিয়েছেন এবং ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের হয়ে অস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দলীয় পরিচয় ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনই ছিল তার মূল কার্যক্রম। তার সঙ্গে আরও অন্তত ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত, যাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

অপহরণ মামলার বাদী মো. বশির হাওলাদার জানান, গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিকদার ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। সেখানে তাকে মারধর করে ২১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয় এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়া হয়।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আইয়ুব আলী সিকদারের মতো প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাধারণ মানুষের জমি দখল বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাহস না পায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলার আসামি আইয়ুব আলী সিকদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, অপহরণ ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।