০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালকিনিতে ভরাট হচ্ছে সরকারি খাল!

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারি খাল ভরাটের মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে যেমন হুমকিতে পড়ছে কৃষি জমি, অন্যদিকে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। স্থানীয় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই চলছে এই জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর শিকারমঙ্গল গ্রামে এ ঘটনা ঘটছে। এলাকার প্রভাবশালী জলিল সরদার, আলমগীর খান ও জাহাঙ্গীর খান তাদের বাড়ির পাশে থাকা একটি সরকারি খাল বালু দিয়ে ভরাট করছেন। এ কাজে ড্রেজার বা বালু উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছেন এলাকার চিহ্নিত ‘বালুখেকো’ হিসেবে পরিচিত বিমান মুন্সি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ও বালু কেটে দেদারসে ফেলা হচ্ছে সরকারি খালে।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে সেই বালু গিয়ে পড়ছে সরকারি খালে। খালের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
​ফসলি জমি থেকে এভাবে বালু তোলায় চারপাশের কৃষি জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাধা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। প্রভাবশালী চক্রটি উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। খালের অস্তিত্ব বিলীন করে সেখানে আবাসন বা ঘরবাড়ি তৈরির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
​এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘খাল খনন কর্মসূচি’র সুনাম যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
​এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও খাল ভরাট বন্ধ করা হোক। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং কৃষকদের বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারের দুই প‌রিবার‌কে সহ‌যো‌গিতার হাত বা‌ড়ি‌য়ে দি‌লেন এম‌পি খোকন

কালকিনিতে ভরাট হচ্ছে সরকারি খাল!

Update Time : ০২:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারি খাল ভরাটের মহোৎসব চলছে। এতে একদিকে যেমন হুমকিতে পড়ছে কৃষি জমি, অন্যদিকে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। স্থানীয় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই চলছে এই জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের উত্তর শিকারমঙ্গল গ্রামে এ ঘটনা ঘটছে। এলাকার প্রভাবশালী জলিল সরদার, আলমগীর খান ও জাহাঙ্গীর খান তাদের বাড়ির পাশে থাকা একটি সরকারি খাল বালু দিয়ে ভরাট করছেন। এ কাজে ড্রেজার বা বালু উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছেন এলাকার চিহ্নিত ‘বালুখেকো’ হিসেবে পরিচিত বিমান মুন্সি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ও বালু কেটে দেদারসে ফেলা হচ্ছে সরকারি খালে।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে সেই বালু গিয়ে পড়ছে সরকারি খালে। খালের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
​ফসলি জমি থেকে এভাবে বালু তোলায় চারপাশের কৃষি জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাধা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। প্রভাবশালী চক্রটি উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। খালের অস্তিত্ব বিলীন করে সেখানে আবাসন বা ঘরবাড়ি তৈরির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
​এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘খাল খনন কর্মসূচি’র সুনাম যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
​এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও খাল ভরাট বন্ধ করা হোক। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং কৃষকদের বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।