০৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘিওরে তিন ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় পাচার: মহাসড়কসহ কৃষিতে ভয়াবহ ঝুঁকি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বায়না জুরি জোকার চক এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে তিন ফসলি কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে গভীর গর্ত করে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে সেই মাটি পরিবহন করা হচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে করে জমির উপরিভাগের উর্বর স্তর (টপ সয়েল) সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর ওই জমিতে কোনো ধরনের ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মহাসড়ক ঝুঁকিতে
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একেবারে পাশে মাটি কাটার ফলে সড়কের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া মাটিবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচলে সড়কে ধুলাবালি ও পিচ্ছিল অবস্থা সৃষ্টি হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের আতঙ্ক ও ক্ষোভ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। তাদের ভাষায়, “এভাবে মাটি কাটতে থাকলে অচিরেই এই এলাকার কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে।”
আরেকজন সচেতন বাসিন্দা বলেন, “ফসলি জমির মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুক।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি
সরকারি আইন অনুযায়ী কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় ঘিওর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

একদিকে কৃষি জমি ধ্বংস, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিরাপত্তা হুমকির মুখে—সব মিলিয়ে ঘিওরের এই পরিস্থিতি এখন বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে পুরো এলাকাবাসীকেই।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাগুরায় নকল কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

ঘিওরে তিন ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় পাচার: মহাসড়কসহ কৃষিতে ভয়াবহ ঝুঁকি

Update Time : ১০:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বায়না জুরি জোকার চক এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে তিন ফসলি কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে গভীর গর্ত করে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে সেই মাটি পরিবহন করা হচ্ছে আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে করে জমির উপরিভাগের উর্বর স্তর (টপ সয়েল) সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর ওই জমিতে কোনো ধরনের ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মহাসড়ক ঝুঁকিতে
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একেবারে পাশে মাটি কাটার ফলে সড়কের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যেকোনো সময় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া মাটিবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচলে সড়কে ধুলাবালি ও পিচ্ছিল অবস্থা সৃষ্টি হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের আতঙ্ক ও ক্ষোভ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। তাদের ভাষায়, “এভাবে মাটি কাটতে থাকলে অচিরেই এই এলাকার কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে।”
আরেকজন সচেতন বাসিন্দা বলেন, “ফসলি জমির মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুক।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি
সরকারি আইন অনুযায়ী কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় ঘিওর উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

একদিকে কৃষি জমি ধ্বংস, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নিরাপত্তা হুমকির মুখে—সব মিলিয়ে ঘিওরের এই পরিস্থিতি এখন বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে পুরো এলাকাবাসীকেই।