০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার।

  • শাহীনুল হক
  • Update Time : ০৪:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩০৪ Time View


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার সাভারের রাজপথ যখন রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন নেপথ্যে থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছিলেন তাদেরই একজন আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফারুক হোসেন ওরফে মাইছা ফারুক। দীর্ঘ আত্মগোপন আর লুকোচুরির পর অবশেষে রাজধানীর উত্তরার এক বিলাসবহুল আস্তানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাভারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন। এর আগে, মঙ্গলবার বিকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৬ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন (৪২) আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ব্যবসার একটি সাধারণ আবরণ ব্যবহার করে তিনি মূলত গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক মাদক সাম্রাজ্য। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে আশুলিয়ায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে তিনি গত কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই এই ‘মাদক সম্রাট’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সাভার বাসস্ট্যান্ডের নিউমার্কেটের সামনে শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩১ নম্বর আসামি এই ফারুক। কেবল কাইয়ুম হত্যাই নয়, আশুলিয়া থানায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ফারুককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। আজ দুপুরে তাকে কড়া নিরাপত্তায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ও জুলাই যোদ্ধাদের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন: অভিযুক্তদের বিচার দাবি

ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক গ্রেপ্তার।

Update Time : ০৪:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার সাভারের রাজপথ যখন রক্তে রঞ্জিত হচ্ছিল, তখন নেপথ্যে থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছিলেন তাদেরই একজন আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফারুক হোসেন ওরফে মাইছা ফারুক। দীর্ঘ আত্মগোপন আর লুকোচুরির পর অবশেষে রাজধানীর উত্তরার এক বিলাসবহুল আস্তানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাভারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন। এর আগে, মঙ্গলবার বিকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৬ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন (৪২) আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ব্যবসার একটি সাধারণ আবরণ ব্যবহার করে তিনি মূলত গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক মাদক সাম্রাজ্য। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে আশুলিয়ায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে তিনি গত কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই এই ‘মাদক সম্রাট’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সাভার বাসস্ট্যান্ডের নিউমার্কেটের সামনে শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩১ নম্বর আসামি এই ফারুক। কেবল কাইয়ুম হত্যাই নয়, আশুলিয়া থানায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে ফারুককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি। আজ দুপুরে তাকে কড়া নিরাপত্তায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।