০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার নাটক’: গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ


মাগুরার মহম্মদপুরে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে সুমি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে,স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমি খাতুন ওই গ্রামের ফারুক মৃধার কন্যা।
ভুক্তভোগীর মা ও পরিবারের লোকেরা জানেন,,
প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সুমি খাতুন একই গ্রামের সাহেব আলীর পুত্র হাবিবুর রহমানকে বিয়ে করেন।

হাবিবুর পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্রতি যৌতুকের দাবীতে শুরু হয় নির্যাতন। তাদের সংসারে আড়াই বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে হাবিবুর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীর কাছে বাবার বাড়ি থেকে দুই লক্ষ টাকা আনতে চাপ দেন। এই টাকা না আনতে পারায় সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে।

অভিযোগে আরও জানাযায়, ঘটনার রাতে পরিকল্পিত ভাবে হাবিবুর তার বন্ধু নুর আলীকে সুমির ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পরকীয়ায় হাতেনাতে ধরার নাটক সাজিয়ে সুমির ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা সুমিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা দাবী করেন, সুমি অত্যন্ত ভদ্র ও নিরীহ মেয়ে। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
জানা গেছে,,অভিযুক্তদের বাড়ি ঘরে তালা দেওয়া, তারা পলাতক রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমির স্বামী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে পরকীয়ার সময় হাতেনাতে ধরেছি। তাই তাকে মারধর করেছি। যৌতুকের দাবীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ।
পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মাগুরায় নকল কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার নাটক’: গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

Update Time : ০৭:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


মাগুরার মহম্মদপুরে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে সুমি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে,স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমি খাতুন ওই গ্রামের ফারুক মৃধার কন্যা।
ভুক্তভোগীর মা ও পরিবারের লোকেরা জানেন,,
প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সুমি খাতুন একই গ্রামের সাহেব আলীর পুত্র হাবিবুর রহমানকে বিয়ে করেন।

হাবিবুর পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্রতি যৌতুকের দাবীতে শুরু হয় নির্যাতন। তাদের সংসারে আড়াই বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে হাবিবুর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীর কাছে বাবার বাড়ি থেকে দুই লক্ষ টাকা আনতে চাপ দেন। এই টাকা না আনতে পারায় সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে।

অভিযোগে আরও জানাযায়, ঘটনার রাতে পরিকল্পিত ভাবে হাবিবুর তার বন্ধু নুর আলীকে সুমির ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পরকীয়ায় হাতেনাতে ধরার নাটক সাজিয়ে সুমির ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা সুমিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা দাবী করেন, সুমি অত্যন্ত ভদ্র ও নিরীহ মেয়ে। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
জানা গেছে,,অভিযুক্তদের বাড়ি ঘরে তালা দেওয়া, তারা পলাতক রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুমির স্বামী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে পরকীয়ার সময় হাতেনাতে ধরেছি। তাই তাকে মারধর করেছি। যৌতুকের দাবীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুজ্জামান বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ।
পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।