০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কাজ বন্ধ করলেন ইউএনও।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৮৬ Time View

প্রতিবেদক শাহীনুল হক :


ঢাকার আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তার কাজ করায় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান। সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও। এর আগে, রবিবার বিকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার উপজেলার নয়ারহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের ভিতর দিয়ে চাকলগ্রাম তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত চলা রাস্তার কাজে নিন্মমানের ইট, বালু ও পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করছিলেন মো. মিরাজ হোসেনের মালিকানাধীন মুরাদ এন্টারপ্রাইজের লোকজন।

রাস্তার কাজের দায়িত্বে থাকা আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আমি বরিশাল থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করছি। এখানে ব্যবহার করা গল্পগুলো বৃষ্টিতে সামান্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেকদিন ফেলে রাখায় শেওলা পড়েছে। তবে রাস্তায় ব্যবহার করা ইটগুলো এক নাম্বার বলে দাবি করেন।

স্থানীয়রা জানান, নিন্মমানের ইট, বালু, রাবিশ দিয়ে কাজ করায় রাস্তা নির্মাণের কারণে এখনি রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় নির্মাণ করা রাস্তায় অনিয়মের কারণে ৩ মাস যাওয়ার আগেই তা নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগনকে। যারা এই ধরনের অনিয়ম করে কাজ করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এলাকাবাসী।

মুক্তিযুদ্ধা আওলাদ হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন রাস্তাটির অপরপ্রান্তে ৭ দিন আগে ঢালাই করা হয়েছে। কোন পানি না দিয়ে শুধু ঝুট বিছিয়ে রাখায় সেখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ধরনের অনিয়মকারী ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করার দাবী জানান তিনি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তাটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাককে ম্যানেজ করে সাবকন্ট্রাক্টর নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে। এর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে কোন নজরদারী করছেনা আব্দুর রাজ্জাক। কমিশন খেয়ে কাজের দেখভাল না করায় ঠিকাদার নয়ছয় করার সুযোগ পেয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করায় সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন নতুন ইট দিয়ে কাজ করছি তবুও স্থানীয়রা কাজের মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ইউএনও যদি কাজ বন্ধ করে দেন তাহলে আমরা আর কাজ করবো না। 

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের লোকজনকে তাদের কাগজপত্র নিয়ে উপজেলায় আসতে বলেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কাজ বন্ধ করলেন ইউএনও।

Update Time : ০৬:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

প্রতিবেদক শাহীনুল হক :


ঢাকার আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তার কাজ করায় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান। সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও। এর আগে, রবিবার বিকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার উপজেলার নয়ারহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের ভিতর দিয়ে চাকলগ্রাম তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত চলা রাস্তার কাজে নিন্মমানের ইট, বালু ও পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করছিলেন মো. মিরাজ হোসেনের মালিকানাধীন মুরাদ এন্টারপ্রাইজের লোকজন।

রাস্তার কাজের দায়িত্বে থাকা আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আমি বরিশাল থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করছি। এখানে ব্যবহার করা গল্পগুলো বৃষ্টিতে সামান্য নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেকদিন ফেলে রাখায় শেওলা পড়েছে। তবে রাস্তায় ব্যবহার করা ইটগুলো এক নাম্বার বলে দাবি করেন।

স্থানীয়রা জানান, নিন্মমানের ইট, বালু, রাবিশ দিয়ে কাজ করায় রাস্তা নির্মাণের কারণে এখনি রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় নির্মাণ করা রাস্তায় অনিয়মের কারণে ৩ মাস যাওয়ার আগেই তা নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগনকে। যারা এই ধরনের অনিয়ম করে কাজ করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এলাকাবাসী।

মুক্তিযুদ্ধা আওলাদ হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন রাস্তাটির অপরপ্রান্তে ৭ দিন আগে ঢালাই করা হয়েছে। কোন পানি না দিয়ে শুধু ঝুট বিছিয়ে রাখায় সেখানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ধরনের অনিয়মকারী ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করার দাবী জানান তিনি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তাটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাককে ম্যানেজ করে সাবকন্ট্রাক্টর নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে। এর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে কোন নজরদারী করছেনা আব্দুর রাজ্জাক। কমিশন খেয়ে কাজের দেখভাল না করায় ঠিকাদার নয়ছয় করার সুযোগ পেয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে পুরাতন ইট দিয়ে কাজ করায় সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন নতুন ইট দিয়ে কাজ করছি তবুও স্থানীয়রা কাজের মান খারাপ হওয়ার অভিযোগ করেছেন। ইউএনও যদি কাজ বন্ধ করে দেন তাহলে আমরা আর কাজ করবো না। 

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের লোকজনকে তাদের কাগজপত্র নিয়ে উপজেলায় আসতে বলেছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।