০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে রাব্বি হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২৮ Time View

প্রতিবেদক : শাহীনুল হক।


ঢাকার সাভার মডেল থানার ক্লুলেস ফজলে রাব্বি (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত স্বামী-স্ত্রীকে র‌্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়ার জেরে রাব্বিকে খুন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা। এর আগে, শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বেলটিয়াবাড়ি এলাকা থেকে রাতুল ও ইতি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন কলমা উত্তরপাড়া এলাকার জাকির আলী ভূঁইয়ার ছেলে রাতুল ভূঁইয়া (২২) ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ইতি (২৩)।

র‌্যাব-১৪ এর ৩নং কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, ভিকটিম ফজলে রাব্বি নিজ বাড়িতে গরু লালন পালন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। গত ১৭ অক্টোবর বিকালে নিজ বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। এরপর রাব্বি বাড়িতে ফিরে না আসায় ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সাভার মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে বাড়ির লোকজন সংবাদ পায় যে সাভারের উত্তর কলমা গ্রামে পরিত্যক্ত জঙ্গলের মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তার ভেতর একটি মরদেহ পড়ে আছে। পরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিম ফজলে রাব্বির মরদেহ শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভিকটিমের মামা মো. ওহাব আলী (৪০) বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব-১৪ এর সহায়তায় শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বেলটিয়াবাড়ি এলাকা থেকে রাতুল ও ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই তাদের সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাতুল ও ইতি ৪/৫ দিন আগে বিয়ে করে টাঙ্গাইলের বেলটিয়াবাড়ী এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগে ইতির সঙ্গে রাব্বির পরকীয়া বা প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সেই পরকীয়ার জেরেই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে। তবে রাতুল ও ইতি এ বিষয়ে কোনো জবানবন্দি দেননি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা বলেন, ফজলে রাব্বি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাতুল ও ইতি দম্পতিকে র‌্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

সাভারে রাব্বি হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার।

Update Time : ০৬:৪২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

প্রতিবেদক : শাহীনুল হক।


ঢাকার সাভার মডেল থানার ক্লুলেস ফজলে রাব্বি (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত স্বামী-স্ত্রীকে র‌্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়ার জেরে রাব্বিকে খুন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা। এর আগে, শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বেলটিয়াবাড়ি এলাকা থেকে রাতুল ও ইতি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন কলমা উত্তরপাড়া এলাকার জাকির আলী ভূঁইয়ার ছেলে রাতুল ভূঁইয়া (২২) ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ইতি (২৩)।

র‌্যাব-১৪ এর ৩নং কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. কাওসার বাঁধন জানান, ভিকটিম ফজলে রাব্বি নিজ বাড়িতে গরু লালন পালন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। গত ১৭ অক্টোবর বিকালে নিজ বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। এরপর রাব্বি বাড়িতে ফিরে না আসায় ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সাভার মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে বাড়ির লোকজন সংবাদ পায় যে সাভারের উত্তর কলমা গ্রামে পরিত্যক্ত জঙ্গলের মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তার ভেতর একটি মরদেহ পড়ে আছে। পরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিম ফজলে রাব্বির মরদেহ শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভিকটিমের মামা মো. ওহাব আলী (৪০) বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব-১৪ এর সহায়তায় শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের বেলটিয়াবাড়ি এলাকা থেকে রাতুল ও ইতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই তাদের সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাতুল ও ইতি ৪/৫ দিন আগে বিয়ে করে টাঙ্গাইলের বেলটিয়াবাড়ী এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগে ইতির সঙ্গে রাব্বির পরকীয়া বা প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সেই পরকীয়ার জেরেই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে। তবে রাতুল ও ইতি এ বিষয়ে কোনো জবানবন্দি দেননি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা বলেন, ফজলে রাব্বি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাতুল ও ইতি দম্পতিকে র‌্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।