১২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় আগাম পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা-বাম্পার ফলনের আশা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩৩ Time View

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়,,
স্টাফরিপোর্টার মাগুরা।


পৌষের শুরুতেই তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে আগাম পেঁয়াজ চাষে জমে উঠেছে মাগুরার কৃষিপল্লী। মাগুরা সদর,শ্রীপুর,শালিখা ও মহম্মদপুর-এই চার উপজেলার মাঠজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।ভোরের কুয়াশা ভেদ করে পেঁয়াজের চারা হাতে নিয়ে মাঠে মাঠে ছুটে যাচ্ছেন তারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামের কদমতলা উত্তর গোবিন্দপুর মাঠে ঘুরে দেখা যায়,সারিবদ্ধ লাইনে চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজ।কেউ চারা উত্তোলনে ব্যস্ত,কেউ বা জমি প্রস্তুত ও রোপণে মনোযোগী।


স্থানীয় কৃষক হারেজ আলী বলেন,“চার দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই।শীত বেশ তীব্র।তারপরও সংসারের কথা চিন্তা করে মাঠে নামতেই হয়।মাটি,পানি আর কাচিই আমাদের ভরসা।
কৃষক রবিউল ইসলাম জানান,এক মাস আগে বীজতলায় চারা তৈরি করে এবার ২০ বিঘা জমিতে আগাম পেঁয়াজ রোপণ করেছেন তিনি।কাজে লাগিয়েছেন ৮-১০ জন শ্রমিক,প্রতিদিন প্রতিজনের মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।তার হিসাব মতে, এবারের চাষে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩০ লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন তিনি।আগামী চৈত্র মাসেই ফলন উঠতে শুরু করবে বলে আশা করছেন।
একই গ্রামের কৃষক ইকরাম মোল্লা বলেন,“এই মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করছি। খরচ হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা,আশা করছি আয় হবে ৬–৭ লাখ।আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে। তিনি আরও জানান,চারা রোপণের পর জমিতে নিয়মিত সার ও সেচ দিতে হবে।অতিরিক্ত কুয়াশা হলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, তাই প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে। এবার তিনি লালতীর ও সুখসাগর জাতের বীজ রোপণ করেছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম জানান,চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলায় কৃষকদের আগাম পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।এ বছর জেলায় ৮৫৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪০ হেক্টর,শ্রীপুরে ৪৫০ হেক্টর, শালিখায় ২০৫ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ১৬৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,“আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
মাগুরার মাঠে তাই শীতের কুয়াশা ভেদ করে জেগে উঠেছে নতুন আশার আলো।আগাম পেঁয়াজ চাষে এবার ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেলে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনছেন জেলার কৃষকরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

মাগুরায় আগাম পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা-বাম্পার ফলনের আশা

Update Time : ১২:২৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়,,
স্টাফরিপোর্টার মাগুরা।


পৌষের শুরুতেই তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে আগাম পেঁয়াজ চাষে জমে উঠেছে মাগুরার কৃষিপল্লী। মাগুরা সদর,শ্রীপুর,শালিখা ও মহম্মদপুর-এই চার উপজেলার মাঠজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।ভোরের কুয়াশা ভেদ করে পেঁয়াজের চারা হাতে নিয়ে মাঠে মাঠে ছুটে যাচ্ছেন তারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামের কদমতলা উত্তর গোবিন্দপুর মাঠে ঘুরে দেখা যায়,সারিবদ্ধ লাইনে চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজ।কেউ চারা উত্তোলনে ব্যস্ত,কেউ বা জমি প্রস্তুত ও রোপণে মনোযোগী।


স্থানীয় কৃষক হারেজ আলী বলেন,“চার দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই।শীত বেশ তীব্র।তারপরও সংসারের কথা চিন্তা করে মাঠে নামতেই হয়।মাটি,পানি আর কাচিই আমাদের ভরসা।
কৃষক রবিউল ইসলাম জানান,এক মাস আগে বীজতলায় চারা তৈরি করে এবার ২০ বিঘা জমিতে আগাম পেঁয়াজ রোপণ করেছেন তিনি।কাজে লাগিয়েছেন ৮-১০ জন শ্রমিক,প্রতিদিন প্রতিজনের মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।তার হিসাব মতে, এবারের চাষে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩০ লাখ টাকার পেঁয়াজ বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন তিনি।আগামী চৈত্র মাসেই ফলন উঠতে শুরু করবে বলে আশা করছেন।
একই গ্রামের কৃষক ইকরাম মোল্লা বলেন,“এই মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করছি। খরচ হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা,আশা করছি আয় হবে ৬–৭ লাখ।আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে। তিনি আরও জানান,চারা রোপণের পর জমিতে নিয়মিত সার ও সেচ দিতে হবে।অতিরিক্ত কুয়াশা হলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, তাই প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে। এবার তিনি লালতীর ও সুখসাগর জাতের বীজ রোপণ করেছেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. তাজুল ইসলাম জানান,চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলায় কৃষকদের আগাম পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।এ বছর জেলায় ৮৫৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪০ হেক্টর,শ্রীপুরে ৪৫০ হেক্টর, শালিখায় ২০৫ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ১৬৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,“আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জেলায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
মাগুরার মাঠে তাই শীতের কুয়াশা ভেদ করে জেগে উঠেছে নতুন আশার আলো।আগাম পেঁয়াজ চাষে এবার ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেলে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বুনছেন জেলার কৃষকরা।