০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় শিশু সন্তানসহ শ্রমিক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২০৬ Time View

প্রতিবেদক: শাহীনুল হক।


ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যা শিশুকে বিছানা থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নরসিংহপুর এলাকার আবুল হোসেন দেওয়ানের টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- বগুড়া জেলার ধুনট থানার নলডাঙা গ্রামের রুবেল আহমেদ, তার স্ত্রী বগুড়ার বড়িতলি গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার এবং তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান জামিলা (৫)। নিহত রুবেল পেশায় রাজমিস্ত্রী ও তার স্ত্রী পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে রুবেল তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আবুল হোসেন দেওয়ানের বাড়ির টিনশেডের একটি কক্ষে ভাড়া ওঠেন। রবিবার বিকাল থেকে ওই পরিবারটির কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা সন্দেহ করেন। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় রুবেলের মরদেহ এবং স্ত্রী ও কন্যা শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মুখ থেকে তীব্র বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিষপ্রয়োগে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রী সোনিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করি। তাদের মধ্যে একজনের ঝুলন্ত মরদেহ এবং স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ বিছানায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রুবেল প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

আশুলিয়ায় শিশু সন্তানসহ শ্রমিক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৯:২০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রতিবেদক: শাহীনুল হক।


ঢাকার আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যা শিশুকে বিছানা থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নরসিংহপুর এলাকার আবুল হোসেন দেওয়ানের টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- বগুড়া জেলার ধুনট থানার নলডাঙা গ্রামের রুবেল আহমেদ, তার স্ত্রী বগুড়ার বড়িতলি গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার এবং তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান জামিলা (৫)। নিহত রুবেল পেশায় রাজমিস্ত্রী ও তার স্ত্রী পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে রুবেল তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আবুল হোসেন দেওয়ানের বাড়ির টিনশেডের একটি কক্ষে ভাড়া ওঠেন। রবিবার বিকাল থেকে ওই পরিবারটির কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা সন্দেহ করেন। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় রুবেলের মরদেহ এবং স্ত্রী ও কন্যা শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মুখ থেকে তীব্র বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিষপ্রয়োগে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রী সোনিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করি। তাদের মধ্যে একজনের ঝুলন্ত মরদেহ এবং স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ বিছানায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রুবেল প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।