ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতা ও দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে কলেজছাত্র সুমন শেখকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রথমে বিক্ষোভকারীরা আলফাডাঙ্গা থানা চত্বরে সমবেত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় ‘আমার ভাই কবরে, খুনিরা কেন বাইরে’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি চাই—খুনিদের ফাঁসি চাই’ এবং ‘আসামি ধরা হচ্ছে না, প্রশাসন নীরব কেন’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে থানা চত্বর। পরে তারা বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে উপজেলা সদর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তায় গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ‘খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার কর’, ‘সুমন হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’—এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আহমদ শিকদার, বিশিষ্ট প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মুরাদ খান, নিহত সুমন শেখের বড় ভাই শামীম শেখ, বোন সানজিদা ও সরজিনা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে একজন নিরস্ত্র কলেজছাত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। তারা হোসাইন শেখকে ‘হাতকাটা’ আখ্যা দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি দাবি করেন এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অন্য সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে পূর্বপরিকল্পিত হামলায় সুমন শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ওই দিন রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছোট ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এম. এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৭ জুন) রাতে নিহতের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, সুমন শেখ হত্যা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।
এদিকে সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: 

















