০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক সংস্কারে বিটুমিন কম দেওয়ার অভিযোগ,হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পাথর-এলাকাবাসীর ক্ষোভ


মাগুরার মহম্মদপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও বিটুমিন কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,সড়কের উপরিভাগে যথাযথভাবে বিটুমিন ব্যবহার না করায় হাত বা পা দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই পাথর উঠে যাচ্ছে। এতে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার লক্ষীপুর মোড় থেকে জোকা প্রিন্স মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ২১৯০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটির সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মাগুরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজু ইন্টারপ্রাইজ। এ কাজের জন্য মোট ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের কাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হচ্ছে না। নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি। ফলে সড়কের উপরিভাগে দেওয়া পাথর ঠিকমতো আটকাচ্ছে না এবং সামান্য চাপেই উঠে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, এই সড়কটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথে চলাচল করে।কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক তদারকি থাকলে এমন অনিয়ম কীভাবে হচ্ছে? প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতির কারণেই কি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে-এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার হাবিব মুঠোফোনে বলেন, কাজ এখনো চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু জায়গায় পাথর উঠে যেতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু বিটুমিন দেওয়ার কথা রয়েছে, ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সড়ক সংস্কারের কাজ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোথাও কাজের মানে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে ঠিকাদারকে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহঃ শাহানুর জামান জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি সড়ক সংস্কারের কাজ যদি নিম্নমানের হয় তাহলে অবশ্যই ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে দেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

সড়ক সংস্কারে বিটুমিন কম দেওয়ার অভিযোগ,হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পাথর-এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Update Time : ০৭:২৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬


মাগুরার মহম্মদপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও বিটুমিন কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,সড়কের উপরিভাগে যথাযথভাবে বিটুমিন ব্যবহার না করায় হাত বা পা দিয়ে সামান্য চাপ দিলেই পাথর উঠে যাচ্ছে। এতে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার লক্ষীপুর মোড় থেকে জোকা প্রিন্স মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ২১৯০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটির সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মাগুরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজু ইন্টারপ্রাইজ। এ কাজের জন্য মোট ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের কাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হচ্ছে না। নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি। ফলে সড়কের উপরিভাগে দেওয়া পাথর ঠিকমতো আটকাচ্ছে না এবং সামান্য চাপেই উঠে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, এই সড়কটি স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথে চলাচল করে।কিন্তু নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক তদারকি থাকলে এমন অনিয়ম কীভাবে হচ্ছে? প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতির কারণেই কি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে-এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার হাবিব মুঠোফোনে বলেন, কাজ এখনো চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু জায়গায় পাথর উঠে যেতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু বিটুমিন দেওয়ার কথা রয়েছে, ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সড়ক সংস্কারের কাজ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোথাও কাজের মানে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে ঠিকাদারকে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহঃ শাহানুর জামান জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি সড়ক সংস্কারের কাজ যদি নিম্নমানের হয় তাহলে অবশ্যই ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে দেওয়া হবে।