১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে আগামী পাঁচ বছরে

  • নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৪২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • ৩৯৪ Time View

জাপান ক্রমবর্ধমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, বরং জাপানকে জানার ও শেখার দ্বারও উন্মোচন করবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য।”

সেমিনারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রথমটি বাংলাদেশের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) এবং কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস)-এর মধ্যে। দ্বিতীয়টি বিএমইটি, জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস (এনবিসিসি) এবং জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি (জেবিবিআরএ)-র মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

শিজুওকার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সমবায়ের পরিচালক মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “জাপানের অনেক কোম্পানি বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশি মেধাবীদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, এবং আমরা তাদের প্রতিভা লালন করতে চাই।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা উল্লেখ করেন, “আমরা বাংলাদেশকে দক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে দেখি। আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে জাপানে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত।”

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে জানান, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত তাদের স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং শিগগিরই এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা করছেন।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি অন্যতম চ্যালেঞ্জ।”

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি বলেন, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় আমাদের বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তা প্রয়োজন। এটি উভয় দেশের জন্যই আশাব্যঞ্জক।”

জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট এক কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠাতে পারে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

স্কুলপড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসানের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে আগামী পাঁচ বছরে

Update Time : ০৩:৪২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

জাপান ক্রমবর্ধমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বৃহস্পতিবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জাপানে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে। এটি শুধু কাজের সুযোগ নয়, বরং জাপানকে জানার ও শেখার দ্বারও উন্মোচন করবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য।”

সেমিনারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রথমটি বাংলাদেশের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) এবং কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস)-এর মধ্যে। দ্বিতীয়টি বিএমইটি, জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কোঅপারেটিভস (এনবিসিসি) এবং জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি (জেবিবিআরএ)-র মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

শিজুওকার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সমবায়ের পরিচালক মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, “জাপানের অনেক কোম্পানি বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশি মেধাবীদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, এবং আমরা তাদের প্রতিভা লালন করতে চাই।”

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা উল্লেখ করেন, “আমরা বাংলাদেশকে দক্ষ ও তরুণ শ্রমিকদের সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে দেখি। আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে জাপানে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত।”

ওয়াতামি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট মিকি ওয়াতানাবে জানান, তারা বাংলাদেশে পরিচালিত তাদের স্কুলে প্রতিবছর ১৫০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেন এবং শিগগিরই এই সংখ্যা ৩০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা করছেন।

জেইটিসিও চেয়ারম্যান হিরোআকি ইয়াগি বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি অন্যতম চ্যালেঞ্জ।”

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি বলেন, “জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় আমাদের বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তা প্রয়োজন। এটি উভয় দেশের জন্যই আশাব্যঞ্জক।”

জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিক সংকট এক কোটি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠাতে পারে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”