০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বাসভবন যমুনায় বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সঙ্গীরা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুতই নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, যার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

এর আগে, সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি, তা তুলে ধরেছি। বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হিসেবে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিয়েছি। সরকার সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাদের দায়ের আওতায় আসবে, কারণ বাহিনীগুলোর সামনে এসব ঘটনা ঘটেছে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিপন্ন হয়েছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদকে কার্যকর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাগাদা দিয়েছি এবং ন্যূনতম সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেছি। প্রশাসনের ফ্যাসিবাদী অংশকে আইনের আওতায় এনে পদচ্যুত করার দাবি জানিয়েছি। যারা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছি।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১৫ বছর ধরে চলমান মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দল, এবং সরকার নৈতিকভাবে এই দাবি সমর্থন করেছে। তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রধান ব্যর্থতা হলো দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া। সরকার আমাদের জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।”

অপারেশন ডেভিল হান্ট বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি, যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ অভিযুক্ত না হন এবং এর ফলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়।”

তিনি স্পষ্ট করে জানান, “জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো স্থানীয় নির্বাচন হবে না। আমরা আগে বলেছি, এখনো বলছি, জাতীয় নির্বাচন আগে হবে, অন্য কোনো নির্বাচন নয়।”

রোডম্যাপ ঘোষণা করার সময় সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা সরকারের বিষয়। তারা ১৫ তারিখের মধ্যে কিছু ঘোষণা করতে পারেন।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

Update Time : ০৯:১৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বাসভবন যমুনায় বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সঙ্গীরা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুতই নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, যার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

এর আগে, সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি, তা তুলে ধরেছি। বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হিসেবে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দিয়েছি। সরকার সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাদের দায়ের আওতায় আসবে, কারণ বাহিনীগুলোর সামনে এসব ঘটনা ঘটেছে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিপন্ন হয়েছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদকে কার্যকর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাগাদা দিয়েছি এবং ন্যূনতম সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেছি। প্রশাসনের ফ্যাসিবাদী অংশকে আইনের আওতায় এনে পদচ্যুত করার দাবি জানিয়েছি। যারা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছি।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১৫ বছর ধরে চলমান মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দল, এবং সরকার নৈতিকভাবে এই দাবি সমর্থন করেছে। তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রধান ব্যর্থতা হলো দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া। সরকার আমাদের জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।”

অপারেশন ডেভিল হান্ট বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি, যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ অভিযুক্ত না হন এবং এর ফলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়।”

তিনি স্পষ্ট করে জানান, “জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো স্থানীয় নির্বাচন হবে না। আমরা আগে বলেছি, এখনো বলছি, জাতীয় নির্বাচন আগে হবে, অন্য কোনো নির্বাচন নয়।”

রোডম্যাপ ঘোষণা করার সময় সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা সরকারের বিষয়। তারা ১৫ তারিখের মধ্যে কিছু ঘোষণা করতে পারেন।”