১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় ধুমধাম কাত্যায়নী উৎসব-৫ দিনের আনন্দ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৪৬ Time View

স্টাফরিপোর্টার।


মাগুরায় পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ধুমধাম কাত্যায়নী উৎসব শুরু হয়েছে।সোমবার (২৭ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত।শতবর্ষী এই কাত্যায়নী পূজাকে ঘিরে পুরো শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এবছর মাগুরা শহরসহ শালিখা,শ্রীপুর ও মহম্মদপুরে মোট চার উপজেলায়-৯৩ টি মন্ডপে
কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরে পূজা,আলোকসজ্জা ও তরুণ নির্মাণ গেট,রাতে আরতি,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ
নানা ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।কাত্যায়নী পূজা মূলত দুর্গাপূজার ঠিক এক মাস পর উদ্‌যাপিত হয়।মাগুরার হিন্দু ও বিভিন্ন উপজেলার সম্প্রদায় প্রতিবছর দুর্গাপূজার পরে কাত্যায়নী প্রতিমা তৈরি করে পূজা উদ্‌যাপন করে।যদিও দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও মাগুরায় কাত্যায়নী পূজার গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে সর্বাধিক।
মাগুরায় কাত্যায়নী পূজা সতীশ মাঝির নেতৃত্বে
সর্বপ্রথম এই পূজা প্রথম শুরু হয়।
এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শহরের নির্মিত ৯০ ফুট উচ্চতার বর্ণিল তোরণ।যা নিজনান্দুয়ালী এলাকায় অবস্থিত।
জেলায় এর আগে এত উঁচু তোরণ নির্মিত হয়নি। তিন সপ্তাহের পরিশ্রমে প্রায় ৩০ জন শিল্পী ও শ্রমিক এই তোরণটি নির্মাণ করেছেন।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বড় আকারের তোরণ মাগুরার কাত্যায়নী পূজার ঐতিহ্যগত দিকটি প্রকাশ করে। “গত ১০ বছর ধরে লাইট বোর্ডের তোরণ নির্মাণ করা হলেও এবার আমরা পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরে গেছি। বাঁশ, কাঠ, কর্কশিট এবং নানা রঙের কাপড় ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে এই তোরণটি।এখন এটি শহরের মানুষের প্রধান আকর্ষণ।প্রতিদিন কাত্যায়নী উৎসব উপলক্ষে মাগুরায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিদেশের মানুষ এই উৎসবে অংশ পরে প্রতিবছর।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কাত্যায়নী উৎসব।এবারেও শহরজুড়ে উৎসবের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিয়েছে যেখানে ধর্মীয় ঐতিহ্য,সৌন্দর্য এবং মানুষের মিলন সবকিছু একসাথে ফুটে উঠেছে।
মাগুরার কাত্যায়নী পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়,এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি জ্বলন্ত প্রতীক,যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শহরের মানুষকে একত্রিত করে রাখছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সার্ক গঠন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানে শহীদ জিয়ার অবদান অনন্য — খন্দকার নাসিরুল ইসলাম

মাগুরায় ধুমধাম কাত্যায়নী উৎসব-৫ দিনের আনন্দ

Update Time : ১২:২১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফরিপোর্টার।


মাগুরায় পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ধুমধাম কাত্যায়নী উৎসব শুরু হয়েছে।সোমবার (২৭ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত।শতবর্ষী এই কাত্যায়নী পূজাকে ঘিরে পুরো শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
এবছর মাগুরা শহরসহ শালিখা,শ্রীপুর ও মহম্মদপুরে মোট চার উপজেলায়-৯৩ টি মন্ডপে
কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরে পূজা,আলোকসজ্জা ও তরুণ নির্মাণ গেট,রাতে আরতি,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ
নানা ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।কাত্যায়নী পূজা মূলত দুর্গাপূজার ঠিক এক মাস পর উদ্‌যাপিত হয়।মাগুরার হিন্দু ও বিভিন্ন উপজেলার সম্প্রদায় প্রতিবছর দুর্গাপূজার পরে কাত্যায়নী প্রতিমা তৈরি করে পূজা উদ্‌যাপন করে।যদিও দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও মাগুরায় কাত্যায়নী পূজার গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে সর্বাধিক।
মাগুরায় কাত্যায়নী পূজা সতীশ মাঝির নেতৃত্বে
সর্বপ্রথম এই পূজা প্রথম শুরু হয়।
এবারের উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শহরের নির্মিত ৯০ ফুট উচ্চতার বর্ণিল তোরণ।যা নিজনান্দুয়ালী এলাকায় অবস্থিত।
জেলায় এর আগে এত উঁচু তোরণ নির্মিত হয়নি। তিন সপ্তাহের পরিশ্রমে প্রায় ৩০ জন শিল্পী ও শ্রমিক এই তোরণটি নির্মাণ করেছেন।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বড় আকারের তোরণ মাগুরার কাত্যায়নী পূজার ঐতিহ্যগত দিকটি প্রকাশ করে। “গত ১০ বছর ধরে লাইট বোর্ডের তোরণ নির্মাণ করা হলেও এবার আমরা পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরে গেছি। বাঁশ, কাঠ, কর্কশিট এবং নানা রঙের কাপড় ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে এই তোরণটি।এখন এটি শহরের মানুষের প্রধান আকর্ষণ।প্রতিদিন কাত্যায়নী উৎসব উপলক্ষে মাগুরায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিদেশের মানুষ এই উৎসবে অংশ পরে প্রতিবছর।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কাত্যায়নী উৎসব।এবারেও শহরজুড়ে উৎসবের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিয়েছে যেখানে ধর্মীয় ঐতিহ্য,সৌন্দর্য এবং মানুষের মিলন সবকিছু একসাথে ফুটে উঠেছে।
মাগুরার কাত্যায়নী পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়,এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি জ্বলন্ত প্রতীক,যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শহরের মানুষকে একত্রিত করে রাখছে।