০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক শতাব্দীর আলো ছড়ানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাগুরার গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২৯ Time View

স্টাফরিপোর্টার।।
গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে অবস্থিত।
এটি নড়াইল-মাগুরা সড়কের পাশে এবং নবগঙ্গা নদীর কোলঘেষে বিদ্যালয়টি স্থাপিত-অর্থাৎ পরিবহন ও নৈসর্গিকতার এক পরিষ্কার মিল রয়েছে,ফলে বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চল থেকে বহু শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা স্থানীয় পথে এসে এখানে লেখাপড়া করছেন।
অঞ্চলের কৃষক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জনপদে আধুনিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া ছিল তখনকার সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।
জানা গেছে,,
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরা জেলার শালিখার গঙ্গারামপুর স্থাপিত হয়।
তৎকালীন বর্বিষ্ণু গ্রাম নড়াইলের কালিয়া নিবাসী মাগুরার খ্যাতনামা উকিল
কামিনী কুমার সেন গুপ্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯০০ সালে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু করে।
তিনি তার পিতা যশোরের প্রখ্যাত উকিল প্রসন্ন কুমার সেন গুপ্তের নাম অনুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন।
প্রথমত বিদ্যালয়ে উন্নত মানের ঘর,আসবাবপত্র ছিল না।
কামিনী কুমার সেন গুপ্তের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষাদান শুরু হয়।
স্থানীয় বিদ্যুৎসাহী ও সুধীবৃন্দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের গৃহ পুনঃ নির্মাণ জন্য অর্থ যোগাড় শুরু হয়।
দুটি টিনের ঘর নির্মিত হয়।
একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়,যা সংক্ষেপে ‘গঙ্গারামপুর পি.কে.মাধ্যমিক’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
বিদ্যালয়টি দ্রুতই বাড়তে শুরু করে এবং ১৯০৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী স্বীকৃতি পায়।
প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান বঙ্কিম চন্দ্র দাস।
বিদ্যালয়টি প্রথম দিকে এক ক’টা খড়ের ঘরে পরিচালিত হতো।
আশপাশের গ্রামগুলো থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূর থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করতে আসতো-ফলে শালিখা অঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতির ধারাকে এটা ব্যাপক ভাবে বদলে দেয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুমারেশ চন্দ্র দে
বলেন,গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মাগুরা জেলার মধ্যে সব থেকে পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
৯ একর-১০ শতক জমির উপর প্রাচীনতম এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে অবস্থিত।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বর্তমানে বিদ্যালয়ে-৬৭৫ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন।
লেখাপড়ার মান বরাবরই ভালো।
২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে শতবর্ষ পালিত হয়েছে।
এই বিদ্যালয় থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চাকরি করছেন,ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার,সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।
শতাব্দীজুড়ে গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক এলাকার একটি প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়ে গেছে।গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিকও জেলা ও উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে,বিশেষ করে শালিখা উপজেলায় এটি সর্বাপেক্ষা পুরনো ও প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের গণনায় শীর্ষে থাকে।
গঙ্গারামপুর প্রসন্নকুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়,শিক্ষার আলো জ্বালানো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

এক শতাব্দীর আলো ছড়ানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাগুরার গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়

Update Time : ০৩:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফরিপোর্টার।।
গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে অবস্থিত।
এটি নড়াইল-মাগুরা সড়কের পাশে এবং নবগঙ্গা নদীর কোলঘেষে বিদ্যালয়টি স্থাপিত-অর্থাৎ পরিবহন ও নৈসর্গিকতার এক পরিষ্কার মিল রয়েছে,ফলে বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চল থেকে বহু শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা স্থানীয় পথে এসে এখানে লেখাপড়া করছেন।
অঞ্চলের কৃষক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জনপদে আধুনিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া ছিল তখনকার সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।
জানা গেছে,,
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাগুরা জেলার শালিখার গঙ্গারামপুর স্থাপিত হয়।
তৎকালীন বর্বিষ্ণু গ্রাম নড়াইলের কালিয়া নিবাসী মাগুরার খ্যাতনামা উকিল
কামিনী কুমার সেন গুপ্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯০০ সালে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু করে।
তিনি তার পিতা যশোরের প্রখ্যাত উকিল প্রসন্ন কুমার সেন গুপ্তের নাম অনুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন।
প্রথমত বিদ্যালয়ে উন্নত মানের ঘর,আসবাবপত্র ছিল না।
কামিনী কুমার সেন গুপ্তের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষাদান শুরু হয়।
স্থানীয় বিদ্যুৎসাহী ও সুধীবৃন্দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের গৃহ পুনঃ নির্মাণ জন্য অর্থ যোগাড় শুরু হয়।
দুটি টিনের ঘর নির্মিত হয়।
একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়,যা সংক্ষেপে ‘গঙ্গারামপুর পি.কে.মাধ্যমিক’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
বিদ্যালয়টি দ্রুতই বাড়তে শুরু করে এবং ১৯০৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী স্বীকৃতি পায়।
প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান বঙ্কিম চন্দ্র দাস।
বিদ্যালয়টি প্রথম দিকে এক ক’টা খড়ের ঘরে পরিচালিত হতো।
আশপাশের গ্রামগুলো থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূর থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করতে আসতো-ফলে শালিখা অঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতির ধারাকে এটা ব্যাপক ভাবে বদলে দেয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুমারেশ চন্দ্র দে
বলেন,গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মাগুরা জেলার মধ্যে সব থেকে পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
৯ একর-১০ শতক জমির উপর প্রাচীনতম এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে অবস্থিত।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বর্তমানে বিদ্যালয়ে-৬৭৫ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন।
লেখাপড়ার মান বরাবরই ভালো।
২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে শতবর্ষ পালিত হয়েছে।
এই বিদ্যালয় থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চাকরি করছেন,ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার,সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।
শতাব্দীজুড়ে গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিক এলাকার একটি প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়ে গেছে।গঙ্গারামপুর প্রসন্ন কুমার মাধ্যমিকও জেলা ও উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে,বিশেষ করে শালিখা উপজেলায় এটি সর্বাপেক্ষা পুরনো ও প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের গণনায় শীর্ষে থাকে।
গঙ্গারামপুর প্রসন্নকুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়,শিক্ষার আলো জ্বালানো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।