০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবালয়ে অন্যের স্ত্রী নিয়ে উধাও শ্রমিকদল নেতা: দলীয় প্রভাব বিস্তারে ধামাচাপার চেষ্টা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এক ছেলে এক মেয়ের জনক হয়েও এক পুত্র সন্তানের জননী বিবাহিতা নারীকে নিয়ে উধাও হয়েছেন—এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজন নেতা হয়ে রাজু হোসেনের এ ধরনের আচরণ স্থানীয়ভাবে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে। একজন জননেতার নৈতিকতা যেখানে সমাজের আদর্শ হওয়ার কথা, সেখানে তার এই কর্মকাণ্ড দুইটি পরিবারের শান্তি ও তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজু হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এদিকে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সব কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজু। থানায়ও ওই নারীর প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে জিডি করেছে। মামলা হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর প্রথম স্বামী শামীম।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ২০০৬ সালে তেওতা বাছেট এলাকার আয়নাল হোসেনের ছেলে মো. শামিম হোসেনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কাটাখালি গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে সানজিদা আক্তারের বিয়ে হয়। ২০১২ সালে তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ওই বছরই সানজিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগ দেন। শামিমের সহযোগিতা ও অর্থায়নেই স্ত্রী লেখাপড়া ও চাকরিতে এগিয়ে যান।

শামিম বেসরকারি একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত থাকায় অন্য জেলায় অবস্থান করতেন। এই সুযোগে শিবালয় উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু হোসেনের সঙ্গে সানজিদার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। প্রায় তিন বছর আগে তাদের পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁস হয় বলে অভিযোগ করেন শামিম।

তিনি জানান, “স্ত্রীর আচরণে সন্দেহ হওয়ায় নজরদারি শুরু করেন। এরপর রাজুর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ হাতে আসে। সংসারে ঝামেলা তৈরি হলেও সম্পর্ক তারা গোপনে চালিয়ে যায়।”

সম্প্রতি সানজিদা কলাগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে উথলি এলাকায় রাজুর সহযোগিতায় উথলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে স্বামীর বাড়ি থেকে গহনা, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বাসাতে স্থানীয়দের কাছে রাজু ও সানজিদা হাতেনাতে ধরা পড়েন। রাজুকে গণপিটুনিও দেয়।

শামিম বলেন, “ সানজিদা বাড়ি ফিরে আসার কথা বলে আমার কাছ থেকে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু বাড়ি ফিরে না এসে জুন মাসে আমাকে তালাক পাঠায়। এখন আমার একমাত্র সন্তানকেও নিয়ে রাজুর সঙ্গে পালিয়েছে।”

এ ঘটনায় শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে রাজুর প্রথম স্ত্রী আইরিন আক্তার বলেন,‘ রাজুর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবার রেখে রাজু অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সে স্বজন ও আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। এখন শুনছি, ওই নারীকে বিয়ে করেছে।”

এ ঘটনায় তিনি জেলা শ্রমিকদলের সভাপতির কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুর কাদের বলেন, “বিষয়টি আমি এখনো জানি না। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

এলাকার নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বলছেন, এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি সমাজের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনগণ যে সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতা আশা করে, তা এখানে ভেঙে চুরমার হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজু হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মহম্মদপুরে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান-৬ জুয়াড়ি আটক

শিবালয়ে অন্যের স্ত্রী নিয়ে উধাও শ্রমিকদল নেতা: দলীয় প্রভাব বিস্তারে ধামাচাপার চেষ্টা

Update Time : ১০:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এক ছেলে এক মেয়ের জনক হয়েও এক পুত্র সন্তানের জননী বিবাহিতা নারীকে নিয়ে উধাও হয়েছেন—এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজন নেতা হয়ে রাজু হোসেনের এ ধরনের আচরণ স্থানীয়ভাবে তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে। একজন জননেতার নৈতিকতা যেখানে সমাজের আদর্শ হওয়ার কথা, সেখানে তার এই কর্মকাণ্ড দুইটি পরিবারের শান্তি ও তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজু হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এদিকে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সব কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজু। থানায়ও ওই নারীর প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে জিডি করেছে। মামলা হামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর প্রথম স্বামী শামীম।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ২০০৬ সালে তেওতা বাছেট এলাকার আয়নাল হোসেনের ছেলে মো. শামিম হোসেনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কাটাখালি গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে সানজিদা আক্তারের বিয়ে হয়। ২০১২ সালে তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ওই বছরই সানজিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগ দেন। শামিমের সহযোগিতা ও অর্থায়নেই স্ত্রী লেখাপড়া ও চাকরিতে এগিয়ে যান।

শামিম বেসরকারি একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত থাকায় অন্য জেলায় অবস্থান করতেন। এই সুযোগে শিবালয় উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু হোসেনের সঙ্গে সানজিদার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। প্রায় তিন বছর আগে তাদের পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁস হয় বলে অভিযোগ করেন শামিম।

তিনি জানান, “স্ত্রীর আচরণে সন্দেহ হওয়ায় নজরদারি শুরু করেন। এরপর রাজুর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ হাতে আসে। সংসারে ঝামেলা তৈরি হলেও সম্পর্ক তারা গোপনে চালিয়ে যায়।”

সম্প্রতি সানজিদা কলাগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে উথলি এলাকায় রাজুর সহযোগিতায় উথলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে স্বামীর বাড়ি থেকে গহনা, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বাসাতে স্থানীয়দের কাছে রাজু ও সানজিদা হাতেনাতে ধরা পড়েন। রাজুকে গণপিটুনিও দেয়।

শামিম বলেন, “ সানজিদা বাড়ি ফিরে আসার কথা বলে আমার কাছ থেকে আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু বাড়ি ফিরে না এসে জুন মাসে আমাকে তালাক পাঠায়। এখন আমার একমাত্র সন্তানকেও নিয়ে রাজুর সঙ্গে পালিয়েছে।”

এ ঘটনায় শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে রাজুর প্রথম স্ত্রী আইরিন আক্তার বলেন,‘ রাজুর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবার রেখে রাজু অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সে স্বজন ও আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। এখন শুনছি, ওই নারীকে বিয়ে করেছে।”

এ ঘটনায় তিনি জেলা শ্রমিকদলের সভাপতির কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুর কাদের বলেন, “বিষয়টি আমি এখনো জানি না। খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

এলাকার নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বলছেন, এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি সমাজের নৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনগণ যে সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতা আশা করে, তা এখানে ভেঙে চুরমার হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজু হোসেনের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।