০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত কি পাকিস্তানকে দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাচেছ- বাংলাদেশ কি বিপদে পড়তে যাচ্ছে?

কাশ্মীর ট্যাজেডির উত্তাপ বাংলাদেশে পড়বেই। বাংলাদেশে ভারত সম্ভবতঃ তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে! গতকাল যখন এই পোস্ট করেছিলাম তখনও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আজকে যখন এই পোস্ট লিখছি তখন জেনে গেছি, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী কী প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুটনৈতিক স্ট্রাইক দিয়েছে। আপনি যদি পাকিস্তানি না হয়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশে বসে অথবা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে এই কুটনৈতিক স্ট্রাইক আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে না। কিন্তু আপনি যদি পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে থাকেন, পাকিস্তানের প্রতি যদি আপনার প্রেম থাকে, ভালোবাসা থাকে তাহলে আপনার জন্য ভয়ংকর বিপদ ধেয়ে আসছে। ভারত যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়ংকর। এক ঢিলে অনেক পাখি শেষ করে দেয়ার মতো। পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক স্ট্রাইকগুলো খেয়াল করুন।

১. বন্ধ করা হলো আটারি সীমান্ত
২. সিন্ধু চুক্তি বাতিল
৩. পাক নাগরিকদের আর কোনও ভিসা নয়
৪. এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে পাক কূটনীতিকদের
৫. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে পাক নাগরিকদের
৬. দেশে ফেরানো হচ্ছে পাকিস্তানে থাকা ভারতীয় কর্মকর্তাদের।
৭. সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে সেনাকে

এখানে সবচেয়ে ভয়ংকর পদক্ষেপ হচ্ছে সিন্ধু চুক্তি বাতিল করা। সিন্ধু পানি চুক্তিটা কী? 
নেহেরু-আইয়ুব খান সাক্ষরিত এই সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বদেশীয় তিনটি নদীর নিয়ন্ত্রণ- বিপাশা, রবি ও শতদ্রু ভারতকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে পশ্চিমের তিনটি নদী- সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং ঝিলাম এর নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানকে দেওয়া হয়। বিতর্কিত বিষয় ছিল, কীভাবে জল-বণ্টন করা হয়েছিল। যেহেতু পাকিস্তানের নদী প্রবাহ ভারতের ওপর দিয়ে, চুক্তি ভারতকে সেচ, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয়, এবং ভারতীয় প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান করে দেওয়া হয়। চুক্তিটি পাকিস্তানের ভয়ের একটি ফসল ছিল, যেহেতু সিন্ধু অববাহিকার উৎস নদী ছিল ভারতে, ভারত চাইলেই সম্ভাব্য খরা এবং দুর্ভিক্ষ পাকিস্তানে সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যুদ্ধের সময়।
অর্থাৎ ভারত উজানে পাকিস্তান ভাটিতে থাকায় পাকিস্তানের নদী প্রবাহ ভারতের উপর দিয়ে গেছে। ভারত চাইলেই একতরফা প্রবাহ বন্ধ করে পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে পারে। এবং এই মুহূর্তে ভারতে সেটাই করছে। পাকিস্তানের অর্থনীতি যে নদীর পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে সেই সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের প্রায় ৬১% নাগরিক এই সিন্ধু নদীর উপর নির্ভরশীল। চাষযোগ্য জমির প্রায় ৮০ ভাগই এই সিন্ধু নদীর পানি দিয়ে চলে। সিন্ধু চুক্তি বাতিলের পরিণতি হিসেবে সিন্ধু নদীর উপর নির্ভরশীল কৃষকের ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বন্ধ হতে পারে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাকিস্তানের জিডিপির ২৫ শতাংশ এই নদীর উপর নির্ভরশীল। সিন্ধু চুক্তি বাতিলের পরিণতি হিসেবে পাকিস্তানে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ নিয়ে আসবে। ভয়ংকর অশান্তি নিয়ে আসবে। পাকিস্তানের ৮০ ভাগ চাষযোগ্য জমি যখন সিন্ধু নদীর পানির অভাবে চাষ করা সম্ভব হবে না যাতাটা তখনই টের পাওয়া যাবে।
এদিকে বাংলাদেশের ইউনুস সরকার পাকিস্তানের সাথে মাখামাখি করছে। বাংলাদেশ হয়ে গেছে দ্বিতীয় পাকিস্তান। আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, পূর্বপাকিস্তান নামে পাকিস্তানের একটা প্রদেশ হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ভারত বহুদিন ধরেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কথা বলে আসছে। পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে ভারত নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। সর্বশেষ কাশ্মীর ট্র্যজেডির আগুনে ঘি ঢেলেছে। ভারতের পাশে বিশ্বের সব পরাশক্তি দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভারতের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রশ্রয় ও মদদদাতা ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কঠিন কোনো পদক্ষেপ নিলে অবাক হবো না। ইউনুস সরকার বেশি বাড়াবাড়ি করলে সিন্ধু চুক্তির মতো আরও ভয়ংকর কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে ভারত। আসিফ নজরুল ইতোমধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছে। কাশ্মীরের পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত ঘটনায় আসিফ নজরুল সরাসরি বিজেপি সরকারকে দায়ী করে নির্বুদ্ধিতা দেখিয়েছে। ভারত নিশ্চয়ই এটার জবাব দিবে।
আরেকদিন বলেছিলাম, ভারতকে রাগিয়ে বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারবে না। বাংলাদেশকে কিছু করতে হলে ভারতকে সমীহ করেই করতে হবে। এটাই বাস্তবতা। রাশিয়ার নাকের ডগায় ইউক্রেন চাইলেই অনেক কিছু করতে পারবে না। বিশেষ করে রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে এমন কোনো কিছু রাশিয়া ইউক্রেনকে করতে দিবে না। প্রয়োজনে ইউক্রেনকে মানচিত্র থেকে সরিয়ে দিবে। ভারতের নাকের ডগায় ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কিছু ভারত পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশকে করতে দিবে না। 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪২ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ আটক ২ নারী

ভারত কি পাকিস্তানকে দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাচেছ- বাংলাদেশ কি বিপদে পড়তে যাচ্ছে?

Update Time : ১০:৩৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

কাশ্মীর ট্যাজেডির উত্তাপ বাংলাদেশে পড়বেই। বাংলাদেশে ভারত সম্ভবতঃ তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে! গতকাল যখন এই পোস্ট করেছিলাম তখনও ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আজকে যখন এই পোস্ট লিখছি তখন জেনে গেছি, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী কী প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুটনৈতিক স্ট্রাইক দিয়েছে। আপনি যদি পাকিস্তানি না হয়ে থাকেন তাহলে বাংলাদেশে বসে অথবা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে এই কুটনৈতিক স্ট্রাইক আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে না। কিন্তু আপনি যদি পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে থাকেন, পাকিস্তানের প্রতি যদি আপনার প্রেম থাকে, ভালোবাসা থাকে তাহলে আপনার জন্য ভয়ংকর বিপদ ধেয়ে আসছে। ভারত যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়ংকর। এক ঢিলে অনেক পাখি শেষ করে দেয়ার মতো। পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক স্ট্রাইকগুলো খেয়াল করুন।

১. বন্ধ করা হলো আটারি সীমান্ত
২. সিন্ধু চুক্তি বাতিল
৩. পাক নাগরিকদের আর কোনও ভিসা নয়
৪. এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে পাক কূটনীতিকদের
৫. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে পাক নাগরিকদের
৬. দেশে ফেরানো হচ্ছে পাকিস্তানে থাকা ভারতীয় কর্মকর্তাদের।
৭. সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে সেনাকে

এখানে সবচেয়ে ভয়ংকর পদক্ষেপ হচ্ছে সিন্ধু চুক্তি বাতিল করা। সিন্ধু পানি চুক্তিটা কী? 
নেহেরু-আইয়ুব খান সাক্ষরিত এই সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বদেশীয় তিনটি নদীর নিয়ন্ত্রণ- বিপাশা, রবি ও শতদ্রু ভারতকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে পশ্চিমের তিনটি নদী- সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং ঝিলাম এর নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানকে দেওয়া হয়। বিতর্কিত বিষয় ছিল, কীভাবে জল-বণ্টন করা হয়েছিল। যেহেতু পাকিস্তানের নদী প্রবাহ ভারতের ওপর দিয়ে, চুক্তি ভারতকে সেচ, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয়, এবং ভারতীয় প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান করে দেওয়া হয়। চুক্তিটি পাকিস্তানের ভয়ের একটি ফসল ছিল, যেহেতু সিন্ধু অববাহিকার উৎস নদী ছিল ভারতে, ভারত চাইলেই সম্ভাব্য খরা এবং দুর্ভিক্ষ পাকিস্তানে সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যুদ্ধের সময়।
অর্থাৎ ভারত উজানে পাকিস্তান ভাটিতে থাকায় পাকিস্তানের নদী প্রবাহ ভারতের উপর দিয়ে গেছে। ভারত চাইলেই একতরফা প্রবাহ বন্ধ করে পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে পারে। এবং এই মুহূর্তে ভারতে সেটাই করছে। পাকিস্তানের অর্থনীতি যে নদীর পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে সেই সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের প্রায় ৬১% নাগরিক এই সিন্ধু নদীর উপর নির্ভরশীল। চাষযোগ্য জমির প্রায় ৮০ ভাগই এই সিন্ধু নদীর পানি দিয়ে চলে। সিন্ধু চুক্তি বাতিলের পরিণতি হিসেবে সিন্ধু নদীর উপর নির্ভরশীল কৃষকের ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বন্ধ হতে পারে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাকিস্তানের জিডিপির ২৫ শতাংশ এই নদীর উপর নির্ভরশীল। সিন্ধু চুক্তি বাতিলের পরিণতি হিসেবে পাকিস্তানে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ নিয়ে আসবে। ভয়ংকর অশান্তি নিয়ে আসবে। পাকিস্তানের ৮০ ভাগ চাষযোগ্য জমি যখন সিন্ধু নদীর পানির অভাবে চাষ করা সম্ভব হবে না যাতাটা তখনই টের পাওয়া যাবে।
এদিকে বাংলাদেশের ইউনুস সরকার পাকিস্তানের সাথে মাখামাখি করছে। বাংলাদেশ হয়ে গেছে দ্বিতীয় পাকিস্তান। আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, পূর্বপাকিস্তান নামে পাকিস্তানের একটা প্রদেশ হয়ে গেছে বাংলাদেশ। ভারত বহুদিন ধরেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কথা বলে আসছে। পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে ভারত নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। সর্বশেষ কাশ্মীর ট্র্যজেডির আগুনে ঘি ঢেলেছে। ভারতের পাশে বিশ্বের সব পরাশক্তি দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ভারতের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রশ্রয় ও মদদদাতা ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কঠিন কোনো পদক্ষেপ নিলে অবাক হবো না। ইউনুস সরকার বেশি বাড়াবাড়ি করলে সিন্ধু চুক্তির মতো আরও ভয়ংকর কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে ভারত। আসিফ নজরুল ইতোমধ্যে আগুনে ঘি ঢেলেছে। কাশ্মীরের পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত ঘটনায় আসিফ নজরুল সরাসরি বিজেপি সরকারকে দায়ী করে নির্বুদ্ধিতা দেখিয়েছে। ভারত নিশ্চয়ই এটার জবাব দিবে।
আরেকদিন বলেছিলাম, ভারতকে রাগিয়ে বাংলাদেশ ভালো কিছু করতে পারবে না। বাংলাদেশকে কিছু করতে হলে ভারতকে সমীহ করেই করতে হবে। এটাই বাস্তবতা। রাশিয়ার নাকের ডগায় ইউক্রেন চাইলেই অনেক কিছু করতে পারবে না। বিশেষ করে রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে এমন কোনো কিছু রাশিয়া ইউক্রেনকে করতে দিবে না। প্রয়োজনে ইউক্রেনকে মানচিত্র থেকে সরিয়ে দিবে। ভারতের নাকের ডগায় ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কিছু ভারত পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশকে করতে দিবে না।