০৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুরে ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধ, মারধরে আহত ১ গ্রেপ্তার ৩-সুষ্ঠ তদন্তের দাবি।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কান্ঠাপাড়া বাজারে জেনারেটরের ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কৃষ্ণ কুমার রায় নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ কবির, শেখ বাবুল ও শেখ এনামুলকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাহার মামলা নং -৬।

১৭ অক্টোবর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন শেখ কবির, শেখ বাবুল ও শেখ এনামুল। গ্রেপ্তার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আহত কৃষ্ণ কুমার রায় উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বীরেন কুমারের ছেলে। তিনি কান্ঠাপাড়া বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি বাজারে তাঁর একটি গ্রিল ওয়ার্কশপ রয়েছে।

মারধরের ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাঁকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্ঠাপাড়া বাজারের একটি কাঠের দোকানের সামনে থাকা কাঁঠালগাছে দুর্গাপূজার মণ্ডপে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটরের ক্যাবল পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে কাঠের দোকানদার শেখ কবির আপত্তি জানালে কৃষ্ণ কুমার রায়ের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মারেন বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরে তা মারধরে গড়ায়। কবিরের ওপর প্রথমে কৃষ্ণ হামলা করেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের ভাষ্য, পরে কবিরও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা আক্রমণ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কৃষ্ণের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।

হরিরামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কান্ঠাপাড়া বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় বলেন, “ক্যাবল রাখা নিয়ে কৃষ্ণ ও কবিরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মেরেছেন বলে শুনেছি। পরে কৃষ্ণের দোকানে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।”

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়। অন্যদিকে কবিরকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কান্ঠাপাড়া বাজার কমিটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পরবর্তীতে আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়বাসিন্দরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা হলো না, বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গায় বাস থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৮ আসামি

হরিরামপুরে ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধ, মারধরে আহত ১ গ্রেপ্তার ৩-সুষ্ঠ তদন্তের দাবি।

Update Time : ০৬:৩০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কান্ঠাপাড়া বাজারে জেনারেটরের ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কৃষ্ণ কুমার রায় নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ কবির, শেখ বাবুল ও শেখ এনামুলকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাহার মামলা নং -৬।

১৭ অক্টোবর শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন শেখ কবির, শেখ বাবুল ও শেখ এনামুল। গ্রেপ্তার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আহত কৃষ্ণ কুমার রায় উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বীরেন কুমারের ছেলে। তিনি কান্ঠাপাড়া বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি বাজারে তাঁর একটি গ্রিল ওয়ার্কশপ রয়েছে।

মারধরের ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাঁকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্ঠাপাড়া বাজারের একটি কাঠের দোকানের সামনে থাকা কাঁঠালগাছে দুর্গাপূজার মণ্ডপে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটরের ক্যাবল পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে কাঠের দোকানদার শেখ কবির আপত্তি জানালে কৃষ্ণ কুমার রায়ের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মারেন বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরে তা মারধরে গড়ায়। কবিরের ওপর প্রথমে কৃষ্ণ হামলা করেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের ভাষ্য, পরে কবিরও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা আক্রমণ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কৃষ্ণের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।

হরিরামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কান্ঠাপাড়া বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় বলেন, “ক্যাবল রাখা নিয়ে কৃষ্ণ ও কবিরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মেরেছেন বলে শুনেছি। পরে কৃষ্ণের দোকানে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।”

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়। অন্যদিকে কবিরকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কান্ঠাপাড়া বাজার কমিটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পরবর্তীতে আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়বাসিন্দরা।