০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের সমাধানের নামে দম্পতিকে পিটিয়ে জখম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানের কথা বলে এক দম্পতিকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর জখম স্বামী এনামুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী সালমা বেগম আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া কাজীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জখমরা হলেন ওই এলাকার এনামুল হক (৪৫) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০)।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জখম দম্পতির মেয়ে বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের সঙ্গে তার ভাতিজা ওবায়দুল খান ওরফে হিরা (৪০) এবং একই বংশের কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই বিরোধের সমাধানের কথা বলে এনামুল হককে অভিযুক্তদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে একপর্যায়ে এনামুল হকের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওবায়দুল খান ওরফে হিরাসহ অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে এনামুল হককে মারধর করেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্ত্রী সালমা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা জখম অবস্থায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনামুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবিদ হোসেন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার স্ত্রী সালমা বেগম বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওবায়দুল খান ওরফে হিরার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মোল্লাপাড়া থেকে ঢাকার সবুজ গালিচায়: ফুটবলের মাঠ কাঁপানো নায়ক কোহিনুর রহমান

আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধের সমাধানের নামে দম্পতিকে পিটিয়ে জখম

Update Time : ০৫:৫৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানের কথা বলে এক দম্পতিকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর জখম স্বামী এনামুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী সালমা বেগম আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া কাজীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জখমরা হলেন ওই এলাকার এনামুল হক (৪৫) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪০)।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জখম দম্পতির মেয়ে বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের সঙ্গে তার ভাতিজা ওবায়দুল খান ওরফে হিরা (৪০) এবং একই বংশের কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই বিরোধের সমাধানের কথা বলে এনামুল হককে অভিযুক্তদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে জমি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে একপর্যায়ে এনামুল হকের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওবায়দুল খান ওরফে হিরাসহ অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে এনামুল হককে মারধর করেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্ত্রী সালমা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা জখম অবস্থায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনামুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবিদ হোসেন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার স্ত্রী সালমা বেগম বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওবায়দুল খান ওরফে হিরার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।