০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকাতির প্রস্তুতি কালে , দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫।


ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটির আরও চার থেকে পাঁচ সদস্য পালিয়ে যায়। পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম। এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের ফকির চাঁন মিলসংলগ্ন নোফেল গ্রুপের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের ফাঁকা মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেদিন বিকেলে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শফিউল আলম সোহাগের নেতৃত্বে একটি টহল দল নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, সাভার ক্যান্টনমেন্টের আব্দুর রউফ গেটের বিপরীতে নোফেল গ্রুপের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের ফাঁকা মাঠে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংবাদ পাওয়ার পর এসআই শফিউল আলম সোহাগ, এসআই নাহিদ হাসান, এসআই মহিউদ্দিন, এএসআই রবিউল ইসলামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তবে ফাঁকা মাঠের সুযোগে আরও চার থেকে পাঁচজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকার মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. মুন্না ইসলাম (২০); নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার চেরেঙ্গা এলাকার মো. আনিসুর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৩০)। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার কুরগাঁও আমতলা এলাকায় আওলাদ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার কৃষ্ণপুর এলাকার মো. কালাচান মিয়ার ছেলে মো. রনি (২৫)। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় খোকন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। এছাড়া আশুলিয়ার গকুলনগর (নামাপাড়া) এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. শওকত (৫৫) এবং বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বেতমোড় এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. সগির (৩৮)। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের তল্লাশি করে দুটি বড় ছোরা, একটি বড় ছেন দা, তিনটি স্টিলের সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ধারালো চাকু ও একটি কাচিসহ মোট আটটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পলাতক সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য কি না, এর আগে শিল্পাঞ্চল কিংবা মহাসড়কে সংঘটিত ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা কোনো নির্দিষ্ট কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অর্থ পরিবহনকারী ব্যক্তি বা যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কি না, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর পেছনে কোনো সরবরাহকারী চক্র রয়েছে কি না- সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও ডাকাতির বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনের আগেই পুলিশের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাদের মতে, এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান নিয়মিত হলে সংঘবদ্ধ অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই মো. শফিউল আলম সোহাগ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং চক্রটির নেপথ্যে থাকা অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ডাকাতির প্রস্তুতি কালে , দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫।

ডাকাতির প্রস্তুতি কালে , দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫।

Update Time : ১১:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬


ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটির আরও চার থেকে পাঁচ সদস্য পালিয়ে যায়। পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম। এর আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের ফকির চাঁন মিলসংলগ্ন নোফেল গ্রুপের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের ফাঁকা মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেদিন বিকেলে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শফিউল আলম সোহাগের নেতৃত্বে একটি টহল দল নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, সাভার ক্যান্টনমেন্টের আব্দুর রউফ গেটের বিপরীতে নোফেল গ্রুপের একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের ফাঁকা মাঠে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংবাদ পাওয়ার পর এসআই শফিউল আলম সোহাগ, এসআই নাহিদ হাসান, এসআই মহিউদ্দিন, এএসআই রবিউল ইসলামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তবে ফাঁকা মাঠের সুযোগে আরও চার থেকে পাঁচজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকার আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকার মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. মুন্না ইসলাম (২০); নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার চেরেঙ্গা এলাকার মো. আনিসুর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৩০)। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার কুরগাঁও আমতলা এলাকায় আওলাদ হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার কৃষ্ণপুর এলাকার মো. কালাচান মিয়ার ছেলে মো. রনি (২৫)। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শগ্রাম এলাকায় খোকন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। এছাড়া আশুলিয়ার গকুলনগর (নামাপাড়া) এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. শওকত (৫৫) এবং বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বেতমোড় এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. সগির (৩৮)। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের তল্লাশি করে দুটি বড় ছোরা, একটি বড় ছেন দা, তিনটি স্টিলের সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ধারালো চাকু ও একটি কাচিসহ মোট আটটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পলাতক সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য কি না, এর আগে শিল্পাঞ্চল কিংবা মহাসড়কে সংঘটিত ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা কোনো নির্দিষ্ট কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অর্থ পরিবহনকারী ব্যক্তি বা যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কি না, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর পেছনে কোনো সরবরাহকারী চক্র রয়েছে কি না- সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও ডাকাতির বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনের আগেই পুলিশের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাদের মতে, এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান নিয়মিত হলে সংঘবদ্ধ অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই মো. শফিউল আলম সোহাগ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং চক্রটির নেপথ্যে থাকা অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পিপিএম বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।