স্টাফরিপোর্টার।
শীতের হালকা কুয়াশা,শিশিরভেজা পাতা আর ঠান্ডা হাওয়ায় মাগুরার মহম্মদপুরে নেমে এসেছে শীতের আগমনী বার্তা।প্রকৃতির এই রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রামাঞ্চলে শুরু হয়েছে খেজুর গাছে নলি বসানো ও গাছ ঝোড়ার ব্যস্ততা।
উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন সদরে যাওয়ার সড়ক এবং বেথড়ী এলাকার দুই পাশে সারি সারি খেজুরগাছ যেন এই মৌসুমের আগমনকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।
ভোরের কুয়াশা ভেদ করে দেখা যায়,গাছিরা মজার পিছনে করে বাঁশের তৈরী সরঞ্জাম ঝুলিতে হাসি,বাটাল,দা ও দড়ি নিয়ে খেজুরগাছে উঠছেন। গাছের মাথায় নলি বসানো,গাছ ঝোড়ার দৃশ্য।
এ বছর রাজশাহীর বাঘা এলাকা থেকে-২টি টিম এসেছে খেজুরগাছ কাটার কাজে।তারা ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে নেমে প্রতিটি গাছে চেরা কেটে নলি বসিয়ে দেন।গাছের বুকে ফুটে ওঠে মিষ্টি রসের আশার দাগ।
স্থানীয়রা বলেন,“শীত মানেই খেজুরের রসের মৌসুম।এই সময়টার জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি।গাছ ভালো থাকলে প্রতিদিনই মেলে কয়েক লিটার রস,যা দিয়ে তৈরি হয় গুড় ও পাটালি।”শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ জীবনে শুরু হয় পিঠা-পুলির উৎসব,আর বাজারে বেড়ে যায় খেজুরের গুড়ের চাহিদা।
রাজশাহীর বাঘা থেকে আসা গাছি মো.হাফিজুর রহমান বলেন,“প্রায় সাত-আট বছর ধরে রসের মৌসুমে আমরা মহম্মদপুরে আসি।এখানে গাছ মালিকদের সঙ্গে চুক্তি ভিত্তিকভাবে কাজ করি। মৌসুম শেষে গাছের মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ গুড়, পাটালি বা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।”
তিনি আরও জানান,“কার্তিক মাস থেকে আমরা গাছ পরিষ্কার শুরু করি।এরপর রস নামানো শুরু হয়,যা মাঘ মাস পর্যন্ত চলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফাল্গুন পর্যন্ত রস পাওয়া যায়।”
গাছি হাফিজুরের ভাষায়,“আমরা প্রজন্ম ধরে এই পেশায় আছি।মহম্মদপুরের গাছগুলো উঁচু ও রসালো,তাই কাজের আনন্দও বেশি।”
খেজুর গাছ এখন শুধু শীতের সৌন্দর্য নয়,বরং গ্রামীণ অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।প্রতিবছর এখানকার খেজুরের গুড় ও পাটালি বিভিন্ন বাজারে সবার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
ফলে ও আশপাশের বাজার গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে।
এই খেজুরের রস,গুড় ও পাটালি বিক্রির মাধ্যমে গ্রামের অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।
তাই বলা যায়-মহম্মদপুরে খেজুরগাছ শুধু শীতের আগমনী বার্তা নয়,এটি এখন গ্রামীণ অর্থনীতির মিষ্টি সম্ভাবনার প্রতীক।
Reporter Name 


















