০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাম্য বিরোধের জেরে বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড: মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকে স্তব্ধ গ্রাম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোক, উদ্বেগ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।

গতকাল শনিবার (২৭ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে নিহত সুমন শেখের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। এ সময় শোকাহত পরিবার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন শেখ মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র হামলাকারী ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম. এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

গ্রাম্য বিরোধের জেরে বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড: মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকে স্তব্ধ গ্রাম

Update Time : ১০:০৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় শোক, উদ্বেগ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।

গতকাল শনিবার (২৭ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে নিহত সুমন শেখের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। এ সময় শোকাহত পরিবার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন শেখ মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র হামলাকারী ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম. এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।