০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইটভাটা সচল রাখার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে ভোগান্তি।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩২২ Time View

প্রতিবেদক : শাহীনুল হক।


ঢাকার সাভারে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চলমান অভিযানের প্রতিবাদে এবং ইটভাটা সচল রাখার দাবিতে স্থানীয় ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের তুরাগ এলাকায় ‘ভাকুর্তা ভাঙ্গা ব্রিজ’ সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় লেনে যানচলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারপরও তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। পরে দুপুর ১২টার পর তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মালিক-শ্রমিকরা ব্যারিকেড তৈরি করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানান, সাভারের বিভিন্ন ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা, চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ইটভাটা চালুসহ অভিযান বন্ধের দাবিতে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিনবাজারের ভাঙাব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন বিভিন্ন ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকেরা। পরে তারা মহাসড়কের উভয় পাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ ঘটনায় সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।

বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট। আটকা পড়েছেন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা। অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে শ্রমিকেরা বলছেন, ‘ইটভাটা চলবে, গাড়ির চাকা ঘুরবে।’

আনিসুর রহমান নামের এক শ্রমিক বলেন, আমরা ছয় মাস ইটভাটায় কাজ করি। বাকি ছয় মাস বাড়িতে কাজ করি। ভাটা বন্ধ করলে খামু কী?

সোহাগ নামের আরেকজন বলেন, পরিবার নিয়ে ইটভাটায় কাজ করি। সরকারি লোকজন আইসা ভাটা বন্ধ করে; জরিমানা নেয়। ইটভাটা চালাইতে দিতে হবে।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছালেহ আহমেদ বলেন, ইটভাটা চালু রাখার দাবিতে ইটভাটার মালিক-শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা সড়ক থেকে সরে গেছেন।

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১৭ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুর বার্ষিক মানমাত্রা জাতীয় বার্ষিক নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় তিন গুণ অতিক্রম করেছে। জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত সাভার উপজেলা মারাত্মক বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ মাস উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে সাভার উপজেলায় সৃষ্ট বায়ুদূষণ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। এটি ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর ক্ষমতাবলে সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হলো।

পরিপত্র অনুযায়ী, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষিত এলাকাটিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী কতকগুলো বিষয় পরিচালনা বা সম্পাদন নিষিদ্ধ করা হয়। এগুলো হলো, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার অন্তর্গত সব ধরনের ইটভাটায় (টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া) ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা, উন্মুক্ত অবস্থায় কঠিন বর্জ্য পোড়ানো, বায়ুদূষণ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে- সব ধরনের নতুন শিল্পকারখানার অনুকূলে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান।

ওই সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছিল, সাভার উপজেলায় ১০৭টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি করা হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

ইটভাটা সচল রাখার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে ভোগান্তি।

Update Time : ০৬:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

প্রতিবেদক : শাহীনুল হক।


ঢাকার সাভারে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চলমান অভিযানের প্রতিবাদে এবং ইটভাটা সচল রাখার দাবিতে স্থানীয় ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের তুরাগ এলাকায় ‘ভাকুর্তা ভাঙ্গা ব্রিজ’ সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় লেনে যানচলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারপরও তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। পরে দুপুর ১২টার পর তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মালিক-শ্রমিকরা ব্যারিকেড তৈরি করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানান, সাভারের বিভিন্ন ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা, চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ইটভাটা চালুসহ অভিযান বন্ধের দাবিতে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিনবাজারের ভাঙাব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন বিভিন্ন ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকেরা। পরে তারা মহাসড়কের উভয় পাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ ঘটনায় সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।

বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট। আটকা পড়েছেন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা। অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে শ্রমিকেরা বলছেন, ‘ইটভাটা চলবে, গাড়ির চাকা ঘুরবে।’

আনিসুর রহমান নামের এক শ্রমিক বলেন, আমরা ছয় মাস ইটভাটায় কাজ করি। বাকি ছয় মাস বাড়িতে কাজ করি। ভাটা বন্ধ করলে খামু কী?

সোহাগ নামের আরেকজন বলেন, পরিবার নিয়ে ইটভাটায় কাজ করি। সরকারি লোকজন আইসা ভাটা বন্ধ করে; জরিমানা নেয়। ইটভাটা চালাইতে দিতে হবে।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছালেহ আহমেদ বলেন, ইটভাটা চালু রাখার দাবিতে ইটভাটার মালিক-শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা সড়ক থেকে সরে গেছেন।

সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১৭ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে সাভারের বায়ুর বার্ষিক মানমাত্রা জাতীয় বার্ষিক নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় তিন গুণ অতিক্রম করেছে। জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত সাভার উপজেলা মারাত্মক বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পাঁচ মাস উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমে বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে সাভার উপজেলায় সৃষ্ট বায়ুদূষণ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে। এটি ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর ক্ষমতাবলে সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা হলো।

পরিপত্র অনুযায়ী, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষিত এলাকাটিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী কতকগুলো বিষয় পরিচালনা বা সম্পাদন নিষিদ্ধ করা হয়। এগুলো হলো, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সাভার উপজেলার অন্তর্গত সব ধরনের ইটভাটায় (টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া) ইট পোড়ানোসহ ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা, উন্মুক্ত অবস্থায় কঠিন বর্জ্য পোড়ানো, বায়ুদূষণ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে- সব ধরনের নতুন শিল্পকারখানার অনুকূলে অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান।

ওই সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছিল, সাভার উপজেলায় ১০৭টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট তৈরি করা হয়।