মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের বাশাইল মধ্যপাড়ায় টানা বর্ষণের কারণে নির্মাণাধীন হযরত ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (রাঃ) জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা ভবন ধসে পড়েছে। জেলা পরিষদের দুই লাখ টাকা অনুদানের সহায়তায় সংস্কার ও নির্মাণকাজ শুরুর পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় মুসল্লি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
মসজিদ ভবনটি ধসে যাওয়ায় ইবাদতের কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে বাজারের দুটি দোকানে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ মুসল্লিদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, “মসজিদটি ধসে পড়ায় আমাদের ধর্মীয় ইবাদত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাজারের ছোট দুটি দোকানে সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত মসজিদ ও মাদ্রাসাটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে এলাকার শিশু ও মুসল্লিদের এই ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হবে।” তারা ধসে পড়া স্থানে জরুরি সুরক্ষার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ্ কবিরের কাছে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জেলা পরিষদের দুই লাখ টাকার অনুদান পেয়ে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টির কারণে মাটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে নির্মাণাধীন কাঠামোটি ধসে পড়েছে। এখন মুসল্লিদের দোকানের মেঝেতে নামাজ পড়তে দেখে আমাদের খুব কষ্ট হয়। নতুন করে এটি নির্মাণে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন, যা আমাদের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য (৩নং ওয়ার্ড) মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এই মসজিদ ও মাদ্রাসাটি দেখাশুনা করেছি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদের কর্তৃপক্ষর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে, পুনোরায় যেন সহযগীতা হাত বাড়িয়ে দেন”
মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. জুনায়েদ হাবিব বলেন, “ইবাদতের ঘর ভেঙে যাওয়ায় পুরো এলাকার মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, দ্রুত যেন এই প্রতিষ্ঠানটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
স্থানীয় মুসল্লি আফজাল হোসেন বলেন, “দোকানপাটে নামাজ পড়তে আমাদের খুব অসুবিধা হচ্ছে, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য। আমরা চাই সরকার যেন দ্রুত আমাদের মসজিদের জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে।”
বর্তমানে এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটি দ্রুত সরকারি অনুদান ও মাননীয় সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন যাতে দ্রুত ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : 



















