০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যার রায়: বিরল দৃষ্টান্ত ও দ্রুত কার্যকরের দাবি আইনমন্ত্রীর

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার এই ঘটনাকে দেশের বিচারিক ইতিহাসের জন্য একটি ‘বিরল দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী জানান, গত ১৯ মে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং তদন্ত শেষে ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকারি ছুটির কারণে আদালত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমরা এক মাসের মধ্যে এই বিচারকাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নিম্ন আদালতের ছুটি বাতিলের প্রস্তাব পাঠানো হলে প্রধান বিচারপতি তাতে সম্মতি দেন। এর ফলে শিশু ট্রাইব্যুনাল ছুটির আওতামুক্ত থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ জুন চার্জ গঠনের পর মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে আমরা এই বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি, যা বিচারিক ইতিহাসে একটি বিরল অর্জন।’

রামিসার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনায় জাতি বেদনাহত। আমরা রামিসাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের যতটুকু করণীয় ছিল, আমরা তা করার চেষ্টা করেছি। নিম্ন আদালতের এই রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আমরা আশাবাদী, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।’

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সব আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনি সব ধাপ মেনে চললে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আমি আশা রাখি।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশু রামিসাকে নিজেদের কক্ষে ডেকে নেন। পরবর্তীতে সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলাটির দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় সরকার, বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সচেতন নাগরিক মহল। এখন পরিবার ও দেশবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর করার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি আচ্ছু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মিলন

রামিসা হত্যার রায়: বিরল দৃষ্টান্ত ও দ্রুত কার্যকরের দাবি আইনমন্ত্রীর

Update Time : ০১:৪৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার এই ঘটনাকে দেশের বিচারিক ইতিহাসের জন্য একটি ‘বিরল দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী জানান, গত ১৯ মে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং তদন্ত শেষে ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকারি ছুটির কারণে আদালত বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমরা এক মাসের মধ্যে এই বিচারকাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে নিম্ন আদালতের ছুটি বাতিলের প্রস্তাব পাঠানো হলে প্রধান বিচারপতি তাতে সম্মতি দেন। এর ফলে শিশু ট্রাইব্যুনাল ছুটির আওতামুক্ত থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ জুন চার্জ গঠনের পর মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে আমরা এই বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার করতে সক্ষম হয়েছি, যা বিচারিক ইতিহাসে একটি বিরল অর্জন।’

রামিসার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনায় জাতি বেদনাহত। আমরা রামিসাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের যতটুকু করণীয় ছিল, আমরা তা করার চেষ্টা করেছি। নিম্ন আদালতের এই রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আমরা আশাবাদী, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।’

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সব আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আইনি সব ধাপ মেনে চললে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আমি আশা রাখি।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশু রামিসাকে নিজেদের কক্ষে ডেকে নেন। পরবর্তীতে সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলাটির দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় সরকার, বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সচেতন নাগরিক মহল। এখন পরিবার ও দেশবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর করার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটবে।