বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি কড়া মন্তব্য করেছেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নিয়ে বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নীচে নেমে গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক মিথ্যা খবর প্রচারিত হচ্ছে, যা ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে, সাধারণ মানুষ থেকে তারকারাও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের অনেক আবেগ এবং অনুভূতি রয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে। কিন্তু বাংলাদেশ এরকম হয়ে যাবে, আমরা কখনো ভাবিনি। আবেগের জায়গা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।’’
বাংলাদেশকে সতর্ক করে মিঠুন বলেন, ‘‘যে সব সতর্কবার্তা শুনছি, টিভিতে দেখছি, তাদের নেতারা যেভাবে কথাবার্তা বলছেন, আমি শুধু একটাই কথা বলবো—ভারতকে খাটো করে দেখবেন না। ডোন্ট আন্ডারএস্টিমেট ইন্ডিয়া!’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে দেখে আমাদের শিখতে হবে, বিশেষ করে বাংলাকে শিখতে হবে। যদি আমরা সবাই একত্রিত হয়ে না লড়ি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পড়বে।’’
মিঠুন চক্রবর্তী আরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর মন্তব্যে আরও বলেন, ‘‘ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট আবেগের সম্পর্ক ছিল, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে, এবং এর ফলে আমাদের আবেগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তা দেখে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন। বিশেষত, ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে, তা ভারতের সাধারণ মানুষ এবং তারকাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘যখন আমি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলি, তখন আমার মনে হয়, আমাদের উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, তা এখন ভেঙে পড়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে ভালো সম্পর্ক ছিল, কিন্তু এখন সেই সম্পর্কের রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নেতাদের ভাষা ও আচরণ ভারতের প্রতি যে অবজ্ঞা প্রকাশ করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’’ মিঠুন চক্রবর্তী আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সরকার ও নেতাদের কথাবার্তা দেখে মনে হচ্ছে তারা ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি তাদের বলবো, ভারতকে কখনো অবহেলা করবেন না। আমরা শক্তিশালী, এবং আমাদের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যাপক। যারা ভারতকে অবজ্ঞা করবে, তাদের জন্য সেটা হিতে বিপরীত হতে পারে।
তিনি যোগ করেন, ‘‘বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে, যারা বাংলাদেশকে নিয়ে অতীতের ভালোবাসা ও আবেগ অনুভব করেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন খুবই বেদনাদায়ক। তাই, আমার পরামর্শ হচ্ছে—বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা।’’ মিঠুন চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেন, ‘‘যদি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঐক্য না থাকে, তাহলে ভবিষ্যত অন্ধকার হতে পারে। আমাদের একত্রিত হতে হবে, অন্যথায় আমরা দুর্বল হয়ে পড়ব।
অনলাইন ডেস্ক 


















