১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন ও নগদ টাকা নেওয়ার দাবি, ফাঁস কলরেকর্ড। আসামির স্ত্রীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার গোপন যোগাযোগ।



ঢাকার সাভারের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তকে ঘিরে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার গোপনীয়তা ভঙ্গ, আসামির স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ও অস্বাভাবিক যোগাযোগ, মূল্যবান উপঢৌকন গ্রহণ, নগদ অর্থ আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পক্ষে একাধিক কলরেকর্ড, অডিও-ভিডিও বার্তা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থাকার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জব্দ তালিকায় উল্লেখ না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পরে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করার শর্তে এসআই নেয়ামত উল্লাহ ও সাভার মডেল থানার এএসআই লিমনকে দুটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্স (আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা) দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় আরও ৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একাধিক কলরেকর্ড ও অডিও বার্তায় দেখা যায়, এসআই নেয়ামত উল্লাহ মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন গোপন তথ্য, পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথি এবং জব্দকৃত আলামতের তথ্য আসামির স্ত্রী সুমাইয়া সাথীর সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়- “মাহাবুবরে ধরতে পারলে থানায় একটার পর একটা জিডি করবেন। দুনিয়ার কেউ যেন না জানে, আমি তারে ধরে এনে দিতেছি… আপনাদের যেই থ্রেট দিক, প্রত্যেকটা জিডি করবেন।”

আরেকটি কলরেকর্ডে তিনি বলেন- “আমি তো স্যারদের সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি, তাকে যেন অন্য কোনো মামলায় না দেওয়া হয়। শামীমের সঙ্গে এসপি স্যার, আলফা থ্রি ও আলফা সেভেন স্যারদের কথা হইছে-তোমারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের করব।”

অভিযোগ রয়েছে, তিনি আসামির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জেলখানায় গিয়ে শামীমের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া একাধিক অডিও ও কলরেকর্ডে দেখা যায়, তদন্তের প্রয়োজনের বাইরে এসআই নেয়ামত উল্লাহ বারবার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গভীর রাতে ফোন ও ভিডিও কলে একান্তে দেখা করার জন্যও তিনি বারবার অনুরোধ জানান।

একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়- “আপনারে তো কালকেও ফোন দিলাম, আমার ফোন দেখলেন না। এত কিসের ডিপ্রেশন? একটু কষ্ট করে আইসেন… ফোনের লাইগা না, অন্য ব্যাপারেও সামনাসামনি কিছু কথা কমু।”

অন্য একটি রেকর্ডে তিনি বলেন- “আমি আপনারে এতবার ফোন দিতাম না। আমি কিছু কথা সামনাসামনি বলতে চাই।”

কুরআন ছুঁয়ে ভিডিও, কান্নাকাটির অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করতে এসআই নেয়ামত উল্লাহ মসজিদের ভেতরে বসে পবিত্র কুরআন হাতে ভিডিও ধারণ করে তা শামীমের স্ত্রীর কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওতে তিনি বলেন- “আল্লাহর এই কুরআনের কসম, আমি কিছুই জানি না। এক টাকাও যদি আমার পেটে যায়, আল্লাহর এই কুরআন যেন আমারে গজব দেয়।”

এছাড়া গভীর রাতে কুরআন সামনে রেখে অজু করে ভিডিও কলে আসার জন্য ওই নারীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

গ্যারেজের চাবি পুলিশের কাছে, তবু অর্ধকোটি টাকার মালামাল উধাও!
অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম রেজার অটোগ্যারেজের চাবি এসআই নেয়ামত উল্লাহর কাছে থাকা অবস্থায় গ্যারেজ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার অটোরিকশা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়।

এই ঘটনায় বহিষ্কৃত কথিত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শামীমের স্ত্রী। পরে ঢাকা জেলা পুলিশ মাহাবুব হোসেন সামিরসহ পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে এবং ছয়টি অটোরিকশা উদ্ধার করে।

ফোনালাপে এসআই নেয়ামত উল্লাহকে মাহাবুবের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিতেও শোনা যায়। এক পর্যায়ে তিনি বলেন- “প্লিজ এই মামলাটা আদালতে করানোর ব্যবস্থা করেন। আমাদের স্যারদের নির্দেশ আপা। আমার যত সাপোর্ট লাগে, খালি অর্ডারটা করায় আনেন।”

এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “আমি মাত্র গতকাল এই থানায় যোগদান করেছি। আগের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীর সঙ্গে আপসের সুযোগ নেই। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসআই মো. নেয়ামত উল্লাহর কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিস্তারিত জানাবেন বলে সময় নেন। তবে পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হরেকৃষ্ণ বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রপক্ষের মামলার গোপন তথ্য বা আলামত আসামিপক্ষের কাছে সরবরাহ করতে পারেন না। এটি পুলিশ প্রবিধান ও পেশাগত আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন। তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ মে সাভার পৌর এলাকার পশ্চিম রাজাশন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শামীম রেজাকে ১০ জুন কক্সবাজার সদর থানার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তৎকালীন ওসি আরমান আলীসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে শামীমের সখ্যতার অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন এসআই নেয়ামত উল্লাহ নিজেই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয় এবং পরে তৎকালীন ওসি ও পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন)কেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে সেই একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে গোপনীয়তা ভঙ্গ, অনৈতিক যোগাযোগ, সুবিধা গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ব্যবসায়ীদের ভালোবাসা নিয়েই আবারও মাঠে নামছি — রাসেল

আইফোন ও নগদ টাকা নেওয়ার দাবি, ফাঁস কলরেকর্ড। আসামির স্ত্রীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার গোপন যোগাযোগ।

Update Time : ০৯:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬



ঢাকার সাভারের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তকে ঘিরে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার গোপনীয়তা ভঙ্গ, আসামির স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ও অস্বাভাবিক যোগাযোগ, মূল্যবান উপঢৌকন গ্রহণ, নগদ অর্থ আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পক্ষে একাধিক কলরেকর্ড, অডিও-ভিডিও বার্তা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থাকার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জব্দ তালিকায় উল্লেখ না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পরে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করার শর্তে এসআই নেয়ামত উল্লাহ ও সাভার মডেল থানার এএসআই লিমনকে দুটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্স (আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা) দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় আরও ৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একাধিক কলরেকর্ড ও অডিও বার্তায় দেখা যায়, এসআই নেয়ামত উল্লাহ মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন গোপন তথ্য, পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথি এবং জব্দকৃত আলামতের তথ্য আসামির স্ত্রী সুমাইয়া সাথীর সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়- “মাহাবুবরে ধরতে পারলে থানায় একটার পর একটা জিডি করবেন। দুনিয়ার কেউ যেন না জানে, আমি তারে ধরে এনে দিতেছি… আপনাদের যেই থ্রেট দিক, প্রত্যেকটা জিডি করবেন।”

আরেকটি কলরেকর্ডে তিনি বলেন- “আমি তো স্যারদের সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি, তাকে যেন অন্য কোনো মামলায় না দেওয়া হয়। শামীমের সঙ্গে এসপি স্যার, আলফা থ্রি ও আলফা সেভেন স্যারদের কথা হইছে-তোমারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের করব।”

অভিযোগ রয়েছে, তিনি আসামির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জেলখানায় গিয়ে শামীমের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া একাধিক অডিও ও কলরেকর্ডে দেখা যায়, তদন্তের প্রয়োজনের বাইরে এসআই নেয়ামত উল্লাহ বারবার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গভীর রাতে ফোন ও ভিডিও কলে একান্তে দেখা করার জন্যও তিনি বারবার অনুরোধ জানান।

একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়- “আপনারে তো কালকেও ফোন দিলাম, আমার ফোন দেখলেন না। এত কিসের ডিপ্রেশন? একটু কষ্ট করে আইসেন… ফোনের লাইগা না, অন্য ব্যাপারেও সামনাসামনি কিছু কথা কমু।”

অন্য একটি রেকর্ডে তিনি বলেন- “আমি আপনারে এতবার ফোন দিতাম না। আমি কিছু কথা সামনাসামনি বলতে চাই।”

কুরআন ছুঁয়ে ভিডিও, কান্নাকাটির অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করতে এসআই নেয়ামত উল্লাহ মসজিদের ভেতরে বসে পবিত্র কুরআন হাতে ভিডিও ধারণ করে তা শামীমের স্ত্রীর কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওতে তিনি বলেন- “আল্লাহর এই কুরআনের কসম, আমি কিছুই জানি না। এক টাকাও যদি আমার পেটে যায়, আল্লাহর এই কুরআন যেন আমারে গজব দেয়।”

এছাড়া গভীর রাতে কুরআন সামনে রেখে অজু করে ভিডিও কলে আসার জন্য ওই নারীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

গ্যারেজের চাবি পুলিশের কাছে, তবু অর্ধকোটি টাকার মালামাল উধাও!
অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম রেজার অটোগ্যারেজের চাবি এসআই নেয়ামত উল্লাহর কাছে থাকা অবস্থায় গ্যারেজ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার অটোরিকশা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যায়।

এই ঘটনায় বহিষ্কৃত কথিত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শামীমের স্ত্রী। পরে ঢাকা জেলা পুলিশ মাহাবুব হোসেন সামিরসহ পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে এবং ছয়টি অটোরিকশা উদ্ধার করে।

ফোনালাপে এসআই নেয়ামত উল্লাহকে মাহাবুবের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিতেও শোনা যায়। এক পর্যায়ে তিনি বলেন- “প্লিজ এই মামলাটা আদালতে করানোর ব্যবস্থা করেন। আমাদের স্যারদের নির্দেশ আপা। আমার যত সাপোর্ট লাগে, খালি অর্ডারটা করায় আনেন।”

এসকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, “আমি মাত্র গতকাল এই থানায় যোগদান করেছি। আগের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীর সঙ্গে আপসের সুযোগ নেই। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসআই মো. নেয়ামত উল্লাহর কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিস্তারিত জানাবেন বলে সময় নেন। তবে পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হরেকৃষ্ণ বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রপক্ষের মামলার গোপন তথ্য বা আলামত আসামিপক্ষের কাছে সরবরাহ করতে পারেন না। এটি পুলিশ প্রবিধান ও পেশাগত আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন। তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ মে সাভার পৌর এলাকার পশ্চিম রাজাশন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শামীম রেজাকে ১০ জুন কক্সবাজার সদর থানার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তৎকালীন ওসি আরমান আলীসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে শামীমের সখ্যতার অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন এসআই নেয়ামত উল্লাহ নিজেই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয় এবং পরে তৎকালীন ওসি ও পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন)কেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে সেই একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে গোপনীয়তা ভঙ্গ, অনৈতিক যোগাযোগ, সুবিধা গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।