১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদীর বুকে নৌকাবাইচ, মাঠে হাডুডু -গোপালপুরে গ্রামবাংলার চিরচেনা উৎসবে মাতল হাজারো মানুষ

নদীর বুকে ছুটছে ডিঙি নৌকা, বৈঠার ছন্দে উঠছে ঢেউ। নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস আর মাঠজুড়ে হাডুডুর প্রাণবন্ত লড়াই—সব মিলিয়ে যেন ফিরে এসেছিল গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা উৎসবের দিন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকাবাইচ ও চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড় এলাকায় স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে শুরু হয় জমজমাট ডিঙি নৌকাবাইচ। প্রতিযোগিতা শুরু হতেই বৈঠার তালে তালে ছুটতে থাকে নৌকা। প্রতিযোগীদের প্রাণপণ চেষ্টা আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়।

দূর-দূরান্ত থেকে নৌকাবাইচ দেখতে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। নদীর দুই তীরে দাঁড়িয়ে কেউ উপভোগ করেছেন নৌকার দৌড়, কেউবা মুঠোফোনে ধারণ করেছেন উৎসবের নানা মুহূর্ত। পুরো এলাকায় তৈরি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

নৌকাবাইচের উত্তেজনা শেষ হতে না হতেই রাতে আলোকসজ্জায় শুরু হয় চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট। মাঠে খেলোয়াড়দের দাপুটে লড়াই আর দর্শকদের মুহুর্মুহু উল্লাসে প্রাণ ফিরে পায় গ্রামীণ খেলাধুলার সেই পুরোনো আবহ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে খেলার মাঠ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

আয়োজকরা জানান, নৌকাবাইচ ও হাডুডুর মতো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তোলা, গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখা এবং তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান বলেন, “নৌকাবাইচ ও হাডুডু আমাদের গ্রামবাংলার শেকড়ের ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে এবং তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি করা প্রয়োজন।”

সভাপতির বক্তব্যে ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নৌকাবাইচ ও হাডুডুর মতো আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

এ সময় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবর, নামমুল ইসলাম রানা, খান নওয়াব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে নৌকাবাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. মোনায়েম খান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

নদীর বুকে নৌকাবাইচ, মাঠে হাডুডু -গোপালপুরে গ্রামবাংলার চিরচেনা উৎসবে মাতল হাজারো মানুষ

নদীর বুকে নৌকাবাইচ, মাঠে হাডুডু -গোপালপুরে গ্রামবাংলার চিরচেনা উৎসবে মাতল হাজারো মানুষ

Update Time : ১০:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদীর বুকে ছুটছে ডিঙি নৌকা, বৈঠার ছন্দে উঠছে ঢেউ। নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস আর মাঠজুড়ে হাডুডুর প্রাণবন্ত লড়াই—সব মিলিয়ে যেন ফিরে এসেছিল গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা উৎসবের দিন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকাবাইচ ও চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড় এলাকায় স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে শুরু হয় জমজমাট ডিঙি নৌকাবাইচ। প্রতিযোগিতা শুরু হতেই বৈঠার তালে তালে ছুটতে থাকে নৌকা। প্রতিযোগীদের প্রাণপণ চেষ্টা আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়।

দূর-দূরান্ত থেকে নৌকাবাইচ দেখতে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। নদীর দুই তীরে দাঁড়িয়ে কেউ উপভোগ করেছেন নৌকার দৌড়, কেউবা মুঠোফোনে ধারণ করেছেন উৎসবের নানা মুহূর্ত। পুরো এলাকায় তৈরি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

নৌকাবাইচের উত্তেজনা শেষ হতে না হতেই রাতে আলোকসজ্জায় শুরু হয় চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট। মাঠে খেলোয়াড়দের দাপুটে লড়াই আর দর্শকদের মুহুর্মুহু উল্লাসে প্রাণ ফিরে পায় গ্রামীণ খেলাধুলার সেই পুরোনো আবহ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে খেলার মাঠ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

আয়োজকরা জানান, নৌকাবাইচ ও হাডুডুর মতো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তোলা, গ্রামীণ সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখা এবং তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান বলেন, “নৌকাবাইচ ও হাডুডু আমাদের গ্রামবাংলার শেকড়ের ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করতে এবং তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি করা প্রয়োজন।”

সভাপতির বক্তব্যে ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নৌকাবাইচ ও হাডুডুর মতো আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

এ সময় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবর, নামমুল ইসলাম রানা, খান নওয়াব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে নৌকাবাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. মোনায়েম খান।