০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গা সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা ওরফে সোহেলের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো, কুপ্রস্তাব দেওয়া, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তদন্তে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন ইউএনও।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহার কাছে নবম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ত। এ সুযোগে শিক্ষক বিভিন্ন সময় তাকে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন, কুপ্রস্তাব দিতেন এবং ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠিয়ে হয়রানি করতেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষক নুরুদ্দোহা বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষার্থীকে চাপ দিয়ে শাড়ি পরা ছবি দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ফোনে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে যেতে সাহস পাচ্ছে না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে কম্পিউটারে রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেন। এ কারণে ওই শিক্ষার্থীর একটি ছবি তিনি মুঠোফোনে চেয়েছিলেন।
শাড়ি পরা ছবি চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের বিয়ের জন্য দুটি মেয়ে পছন্দ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীও ছিল। এ কারণে তিনি তার কাছে শাড়ি পরা একটি ছবি চেয়েছিলেন। তবে রাত ১২টার পর ওই শিক্ষার্থীকে ফোন দেওয়া ঠিক হয়নি বলে নিজের ভুল স্বীকার করেন শিক্ষক নুরুদ্দোহা।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছেন। অভিযোগের পর ইউএনও তাকে ডেকেছিলেন এবং অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা গণিত বিষয়ের শিক্ষক। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে পাঠদান করে আসছেন। তিনি একটু রাগী এবং শিক্ষার্থীদের শাসন করেন বেশি। তবে ছাত্রীকে হয়রানির মতো অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আগে কখনো শোনা যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

র‌্যাবের যৌথ অভিযান: ৬ কোটি টাকার কথিত সাপের বিষ উদ্ধার, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩ জন।

আলফাডাঙ্গা সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

Update Time : ১২:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা ওরফে সোহেলের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো, কুপ্রস্তাব দেওয়া, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তদন্তে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন ইউএনও।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহার কাছে নবম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ত। এ সুযোগে শিক্ষক বিভিন্ন সময় তাকে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন, কুপ্রস্তাব দিতেন এবং ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠিয়ে হয়রানি করতেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষক নুরুদ্দোহা বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষার্থীকে চাপ দিয়ে শাড়ি পরা ছবি দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ফোনে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে যেতে সাহস পাচ্ছে না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে কম্পিউটারে রেজিস্ট্রেশনের কাজ করেন। এ কারণে ওই শিক্ষার্থীর একটি ছবি তিনি মুঠোফোনে চেয়েছিলেন।
শাড়ি পরা ছবি চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের বিয়ের জন্য দুটি মেয়ে পছন্দ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীও ছিল। এ কারণে তিনি তার কাছে শাড়ি পরা একটি ছবি চেয়েছিলেন। তবে রাত ১২টার পর ওই শিক্ষার্থীকে ফোন দেওয়া ঠিক হয়নি বলে নিজের ভুল স্বীকার করেন শিক্ষক নুরুদ্দোহা।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পেরেছেন। অভিযোগের পর ইউএনও তাকে ডেকেছিলেন এবং অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, শিক্ষক মো. নুরুদ্দোহা গণিত বিষয়ের শিক্ষক। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে পাঠদান করে আসছেন। তিনি একটু রাগী এবং শিক্ষার্থীদের শাসন করেন বেশি। তবে ছাত্রীকে হয়রানির মতো অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আগে কখনো শোনা যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।