ঢাকার সাভার ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে র্যাবের যৌথ অভিযানে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যমানের ৯১০ গ্রাম কথিত সাপের বিষ উদ্ধার এবং একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের কথিত মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পদার্থের মধ্যে রয়েছে ৪৭০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত পাউডার ও ৪৪০ গ্রাম তরল আকারের কথিত সাপের বিষ। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও দুটি বাটন ফোন।
তবে উদ্ধার হওয়া পদার্থটি প্রকৃতপক্ষে সাপের বিষ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাসায়নিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই এর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে কারণেই র্যাব উদ্ধারকৃত পদার্থকে “কথিত সাপের বিষ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে র্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর ক্যাম্প)-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত র্যাব-৪ ও র্যাব-৩-এর যৌথ আভিযানিক দল সাভার ও যাত্রাবাড়ীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার পশ্চিম মাতুয়াইল এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (৩২), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার লালপুর এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. শাহজাহান (৬৫) এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার হাওলাদারবাড়ি এলাকার চাঁন মিয়া জমাদ্দারের ছেলে মো. নান্না মিয়া (৪৮)।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাভারের পার্বতীনগরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে দুই ব্যক্তি নিষিদ্ধ সাপের বিষ বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন- এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে অভিযান চালিয়ে শাহজাহান ও নান্না মিয়াকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২০ গ্রাম পাউডার, ১০ গ্রাম তরল কথিত সাপের বিষ, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও দুটি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।
আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ ও র্যাব-৩ এর যৌথ দল পরে যাত্রাবাড়ীর পশ্চিম মাতুয়াইল এলাকার ক্লাব রোডে দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে চক্রের কথিত মূলহোতা আব্দুর রহমানকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত পাউডার, ৪৩০ গ্রাম তরল কথিত সাপের বিষ এবং দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে সাপের বিষ সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত ও কেনাবেচার কথা স্বীকার করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এর পেছনে একটি বৃহত্তর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে। সেই নেটওয়ার্কে আরও কারা জড়িত, বিষের প্রকৃত উৎস কোথায় এবং এটি কোন দেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল- এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা গবেষণা, অ্যান্টিভেনম উৎপাদন এবং কিছু ওষুধ তৈরিতে সীমিত পরিসরে সাপের বিষ ব্যবহার হলেও এর উৎপাদন ও বাণিজ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়ে অনেক সময় সাপের বিষের নামে ভেজাল বা অন্য রাসায়নিক পদার্থ পাচারের ঘটনাও ঘটে। ফলে উদ্ধার হওয়া পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
র্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর ক্যাম্প) এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, উদ্ধার হওয়া পদার্থের উৎস কোথায় এবং কোনো আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না- এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের তিনজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিবেদক : শাহীনুল হক। 

















