০৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসী রবিন গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি।

আশুলিয়ায় বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর, ধারালো অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা লুট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে ঢাকার আশুলিয়ায় মো. রবিন খন্দকার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাদাইলের কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় এক বাড়ির ম্যানেজার ও তাঁর পরিবারের ওপর এ হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। রবিনের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গ্রেপ্তার মো. রবিন খন্দকার আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার মো. আব্দুল আউয়াল খন্দকারের ছেলে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম-৩।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো. আব্দুল জলিল খালিফা (৫৫) ভাদাইলের কাঁঠালতলা মোড়ের কবির খান মার্কেটের ম্যানেজার। পাশাপাশি সেখানে ‘জান্নাতী হেয়ার কাটিং’ ও ‘জ্যোতি হেয়ার কাটিং’ নামে দুটি সেলুন পরিচালনা করেন তিনি। স্ত্রী জেসমিন বেগমকে নিয়ে মার্কেটসংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন জলিল।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে রবিন খন্দকার জলিলের বসতঘরে ঢুকে ধারালো বঁটি দিয়ে আলমারি, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় বাধা দিলে জলিলের স্ত্রীর গলায় বঁটি ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আলমারিতে রাখা বাড়ি ও মার্কেটের ভাড়া আদায়ের তিন লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এরপর রবিনের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজন জলিলের সেলুনে হামলা চালিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। প্রাণ বাঁচাতে পাশের দোকানে আশ্রয় নিলে তাঁর সেলুনের কাচ, পার্টিশন ও মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যাওয়ার সময় জলিল ও তাঁর স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

পরে জলিল ও তাঁর স্ত্রী স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসা নেন। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রবিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রবিন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাদাইল এলাকায় রবিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা হলো না, বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গায় বাস থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৮ আসামি

সন্ত্রাসী রবিন গ্রেপ্তার, এলাকায় স্বস্তি।

Update Time : ০৯:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আশুলিয়ায় বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর, ধারালো অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা লুট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে ঢাকার আশুলিয়ায় মো. রবিন খন্দকার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাদাইলের কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় এক বাড়ির ম্যানেজার ও তাঁর পরিবারের ওপর এ হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। রবিনের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গ্রেপ্তার মো. রবিন খন্দকার আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার মো. আব্দুল আউয়াল খন্দকারের ছেলে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম-৩।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মো. আব্দুল জলিল খালিফা (৫৫) ভাদাইলের কাঁঠালতলা মোড়ের কবির খান মার্কেটের ম্যানেজার। পাশাপাশি সেখানে ‘জান্নাতী হেয়ার কাটিং’ ও ‘জ্যোতি হেয়ার কাটিং’ নামে দুটি সেলুন পরিচালনা করেন তিনি। স্ত্রী জেসমিন বেগমকে নিয়ে মার্কেটসংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন জলিল।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে রবিন খন্দকার জলিলের বসতঘরে ঢুকে ধারালো বঁটি দিয়ে আলমারি, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় বাধা দিলে জলিলের স্ত্রীর গলায় বঁটি ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আলমারিতে রাখা বাড়ি ও মার্কেটের ভাড়া আদায়ের তিন লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এরপর রবিনের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজন জলিলের সেলুনে হামলা চালিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। প্রাণ বাঁচাতে পাশের দোকানে আশ্রয় নিলে তাঁর সেলুনের কাচ, পার্টিশন ও মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যাওয়ার সময় জলিল ও তাঁর স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

পরে জলিল ও তাঁর স্ত্রী স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসা নেন। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রবিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রবিন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাদাইল এলাকায় রবিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।